বিআইডিএসের সংলাপে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের স্বাস্থ্য খাত কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে সেটি করোনা বুঝিয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সেটি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে কম। জিডিপির হিসাবে ১ শতাংশের কম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে। দেশের স্বাস্থ্য খাতে ভারতের মতো বিপর্যয় দেখা না দিলেও করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
‘কোভিড-১৯ : অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ’ শিরোনামে গতকাল রবিবার ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত এই সংলাপে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই এর উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী। সংলাপটি সঞ্চালনা করেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন।
অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গত ১০০ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতে এতবড় বিপর্যয় কখনো হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনীতিরও এতবড় ক্ষতি হয়নি। তবে কোভিডের কারণে বোঝা গেছে দেশের স্বাস্থ্য খাত কতটা ভঙ্গুর। সেটা অদক্ষতার কারণে হোক, অনিয়মের কারণে হোক সেটি এখন স্পস্ট হয়েছে।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, স্বাধীন হবার পর সবচেয়ে বড় সংকট পার করছে বাংলাদেশ। সংসদে ৭০-৮০ শতাংশ এখন ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী বেশি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কাছে স্বাস্থ্য খাত গুরুত্ব পাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক আটকের ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তথ্যের অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া জবাবদিহিতারও অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে করোনার পরীক্ষা সবচেয়ে কম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর অতি দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো পাশ করা হয়েছে। টিকা পাওয়া নিয়ে জনমনে একটা ভীতি ও শঙ্কা বিরাজ করছে। চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার চেষ্টা চলছে। গ্রামের মানুষ চাহিদা অনুযায়ী চিকিত্সাসেবা পান না। অথচ হওয়া উচিত ছিল ভিন্ন। স্বাস্থ্য খাতে অসমতা কমাতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ড. মসিউর রহমান বলেন, গ্রামে প্রণোদনার সহায়তা পৌঁছায়নি কারণ গ্রামে ব্যাংকের সুবিধা নেই। তাছাড়া অগ্রাধিকার নির্ধারণ করাও সমস্যা।
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, দেশে যারা করোনার টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। টিকা নেওয়ার পরেও যাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ হয়েছে তাদের মধ্যে হাসপাতালে যাওয়ার হার নেই বললেই চলে। করোনার টিকা নিয়ে তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিলেই হবে। ভারত থেকে অক্সফোর্ডের টিকা না পেলেও অন্য দেশ থেকে এই টিকা আনতে হবে।
