স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেও পেনশন সুবিধা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে চাকরি বাজেয়াপ্ত হবে (পেনশন সুবিধা না পাওয়া সংক্রান্ত) বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের এ সংক্রান্ত বিধির অংশ বিশেষ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে স্বেচ্ছায় কেউ চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল করার বিষয়টি জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর সহকারী জজ হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন মাহবুব মোরশেদ। ২০১১ সালে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে এককালীন পেনশন ও আনুতোষিক প্রাপ্তির লক্ষ্যে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ঐ আবেদন মঞ্জুর করে এ সংক্রান্ত চিঠি ২০১৫ সালে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি ফেরত দেয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়।
ঐ চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে আগের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত (চাকরি নেই) হবে। অর্থাত্ পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য হবে না যেহেতু আবেদনকারীর চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি। ফলে তিনি পেনশনপ্রাপ্ত নন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ৩০০ বিধি চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন মাহবুব মোরশেদ। ঐ বছরই প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। রুলে ৩০০ বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। একই সঙ্গে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের চিঠি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত মার্চ মাসে হাইকোর্ট এ রায় দেয়। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ৩০০ (এ) বলছে, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে অথবা অসদাচরণ, দেউলিয়া, বয়সের কারণ ব্যতীত অদক্ষতা অথবা নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারার কারণে চাকরি হতে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হলে আগের চাকরি বাজেয়াপ্ত হবে।
