ব্যাটিংয়ে তিন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের নির্ভরতা দেয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অবশেষে স্বস্তিদায়ক এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৩ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। এতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে টাইগাররা। আগামীকাল একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। বাংলাদেশের জন্য জয়টা ছিল বড় প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ১০ ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল টাইগাররা। গতকাল আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৫৭ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ৪৮.১ ওভারে ২২৪ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। রান তাড়া করতে নেমে মিরাজের ঘূর্ণিতে পথ হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ১০২ রানে ৬ উইকেট হারানো লঙ্কানদের হয়ে লড়াই করেছিলেন হাসারাঙ্গা। দলীয় ২১১ রানে সাইফউদ্দিনের শিকার হন তিনি। ৬০ বলে হাসারাঙ্গার ৭৪ রানের ইনিংসে হারের ব্যবধান কমায় সফরকারীরা। গুণাথিলাকা ২১, কুশল পেরেরা ৩০, কুশল মেন্ডিস ২৪, উদানা ২১ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ ৩০ রানে ৪টি, মুস্তাফিজ ৩টি, সাইফউদ্দিন ২টি, সাকিব ১টি উইকেট পান।
এর আগে সম্ভাবনা জাগিয়েও টসজয়ী বাংলাদেশের ইনিংসটা প্রত্যাশিত গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারেনি। তীব্র গরমে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ব্যাটসম্যানরা। সঙ্গে উইকেট পতনের ধাক্কায় বারবারই হোঁচট খেয়েছে স্বাগতিকদের ইনিংস। তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরিই বাংলাদেশের স্কোরের মূল রসদ। অভিজ্ঞ ত্রয়ীর ব্যাট থেকেই এসেছিল ১৯০ রান। দলের বাকি সবাই মিলে যোগ করেছেন ৬৭ রান।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লিটন (০) ফিরে যান উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। রয়ে-সয়ে শুরু করলেও সাকিব থেমে যান ১৫ রান করে। ধনাঞ্জয়ার করা ২৩তম ওভারে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়ে ফিরে যান তামিম ও মিঠুন। ৫১তম হাফ সেঞ্চুরি করা তামিম ৫২ রান করেন। সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন মিঠুন (০)। তারপর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ১০৯ রানের জুটিতে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
ক্যারিয়ারের ৪০তম হাফ সেঞ্চুরির পর রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিক। তিনি ৮৪ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ ২৪তম হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে থামেন ৫৪ রান করে। শেষ দিকে আফিফের অপরাজিত ২৭, সাইফউদ্দিনের অপরাজিত ১৩ রানে আড়াইশো পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। শ্রীলঙ্কার ধনাঞ্জয়া ৩টি উইকেট পান।
