পাক সিনেটে স্পাই ক্যামেরা কেলেঙ্কারির ছয় সপ্তাহ পরেও সভা হয়নি

আপডেট : ২৪ মে ২০২১, ১৭:৫৫

গত ১৩ মার্চ (শনিবার) স্পাই ক্যামেরা লাগানোকে ঘিরে তুলকালাম হয় পাকিস্তান পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে। ঘটনাটি ঘটার ছয় সপ্তাহ পর এখনও তার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা যায়। ওই গোপন ক্যামেরা লাগানোর প্রথম অভিযোগ তোলেন তথ্যমন্ত্রী শিবলি ফারাজ। 

পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সিনেটর রানা মকবুল আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বলেন চেয়ারম্যানের নির্বাচনের জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও করোনা মহামারির কারণে সভাটি স্থগিত করা হয়েছিল।

দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) ডাঃ সিকান্দার মান্ধ্রো বলেন, কমিটির প্রথম অধিবেশনটির তফসিল এখনও পাওয়া যায়নি কারণ সিনেট সচিবালয় থেকে এ সম্পর্কিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই বছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেনেটের চেয়ারম্যান ও ডেপুটি চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন ছিল। সেখানেই ভোট চলাকালীন বিরোধীদের বিরুদ্ধে ওই গোপন ক্যামেরা লাগানোর অভিযোগ প্রথমে তোলেন তথ্যমন্ত্রী শিবলি ফারাজ়। তার কথায় শাসক দলের বাকি সেনেটরেরা হইচই শুরু করে দেন। 

পাকিস্তান পিপলস পার্টির সেনেটর নওয়াজ় খোকার দাবি করেন, পোলিং বুথের ঠিক উপরেই স্পাই ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সিনেটর রাজা রব্বানি জানান, এ ভাবে সিনেটে ক্যামেরা লাগানো নিয়ম বিরুদ্ধ। কিছুক্ষণ পরে পাক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, সম্ভবত সিসি ক্যামেরাকে সেনেটরেরা গোপন ক্যামেরা ভেবে ভুল করেছেন।

শাসক দল পিটিআই-এর পক্ষে চেয়ারম্যান পদের জন্য লড়েছিলেন সাদিক সানজরানি। নির্বাচিত হয়ে তিনিই হলেন সর্বকনিষ্ঠ সিনেট চেয়ারম্যান। সাদিক ৪৮টি ভোট পেয়েছেন। তবে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বিরোধী জোট পিডিএম-এর প্রার্থী তথা প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজ়া গিলানির সঙ্গে। গিলানির পক্ষে গিয়েছে ৪২টি ভোট। সম্প্রতি সিনেট নির্বাচনে ইসলামাবাদ আসনে জিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই-কে সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন গিলানি। পরে অবশ্য পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয় পায় ইমরানের দল।

ইত্তেফাক/এএইচপি