সিলেটে চলতি বছর এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী সোমবার দুপুরে ইত্তেফাককে জানান, সাধারণত মে মাসে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। আর দাবদাহ বেশি থাকে এপ্রিল ও আগস্ট মাসে। এবার ব্যতিক্রম। রবিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবারও প্রায়ই একই অবস্থা। এর আগে ২০০৬ সালে মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এই গরমের উত্পত্তি। তাপমাত্রাও বাড়ছে’, বলেন আবহাওয়াবিদ সাঈদ। তিনি জানান, ২৬ মের পরে হালকা বৃষ্টি ও ২৯ বা ৩০ মে নাগাদ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল এবং মে মাসের স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হয়েছে। একই অবস্থা গেছে আগের তিন মাসও। জুন-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
দেখা গেছে, বৈশাখ গড়িয়ে জৈষ্ঠ্য শুরু হলেও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেটে বৃষ্টি সেইরূপ নেই। মাঝে মধ্যে ছিটে-ফোঁটা বৃষ্টি হলেও মৌসুমের চিরচেনা মুষল ধারে বৃষ্টি নেই। নদীগুলোতে পাহাড়ি ঢল নামেনি। সিলেট জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পানি কম, ঢল নেই। নদীতে সে াত নেই। এতে মাছের প্রজনন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা বৃষ্টির অপেক্ষায়।’
এদিকে, চা-বেষ্টিত পাহাড়ি এলাকা সিলেটে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গিয়ে ক্রমাগত বাড়ছে তাপমাত্রা। চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানের শেষ দিকের বৃষ্টি বাগানগুলোকে কিছুটা রক্ষা করেছে। তবে কিছু দিনের মধ্যে বৃষ্টির প্রয়োজন পড়বে। বৃষ্টির অভাবে সিলেটের আউশ চাষিরা দুঃশ্চিন্তায়। বীজতলা তৈরিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। অবশ্য সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী সোমবার জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে ইত্তেফাককে জানান, মাঠের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক নয়। কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি নামলে স্বস্তি নামবে। কৃষি অফিস জানায়, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সিলেট অঞ্চলে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমি থেকে ১৯ লক্ষাধিক মেট্রিকটন চাল উত্পাদন হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার ৮৯০ হেক্টর থাকলেও উত্পাদন হয়েছে ২৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, সিলেটে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মাত্র ৫২১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। মার্চে ১৫৫ মিলিমিটারের স্থলে ১২৭ মিলিমিটার, এপ্রিলে ৩৭৬ মিলিমিটারের স্থলে ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অথচ এই সময়ে ৫০০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল। আর মে মাসে ৫৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও ২৪ মে পর্যন্ত ২৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছর সিলেটে ৪ হাজার ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা। গত বছর এই সময়ে সুনামগঞ্জেই ৬০০ দশমিক ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তবে দেশের উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে কানাইঘাট ও লালাখাল স্টেশনে। এরমধ্যে কানাইঘাটে ৯১ মিলিমিটার ও লালাখালে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।
