জুমের আগুনে পুড়ছে বান্দরবানের শত শত সবুজ পাহাড়। জুমিয়াদের লাগানো আগুনে পুড়ে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য এবং প্রকৃতিও। সবুজ পাহাড়গুলো হয়ে পড়ছে বৃক্ষশূন্য। আদি পদ্ধতিতে জুমচাষের জন্য পাহাড়ের ঝাড়-জঙ্গল, গাছপালা আগুন লাগিয়ে পোড়ানোর কারণে পার্শ্ববর্তী অসংখ্য ব্যক্তিমালিকানাধীন মিশ্র ফলের বাগানও পুড়ে যাচ্ছে। তাই আদি পদ্ধতিতে জুমচাষ না করে আধুনিক পদ্ধতিতে জুমচাষের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুমচাষ পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধিবাসীদের শত বছরের প্রাচীন চাষ পদ্ধতি। পাহাড়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহে তাদের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই জুমচাষ। তবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই চাষ পদ্ধতি বন্ধের জন্য অনেক প্রকল্প গ্রহণ করলেও তা পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত না হওয়ায় অবাস্তবায়িতই থেকে যায়। প্রতি বছর স্থান পরিবর্তন করে সেচ ও কর্ষণ ছাড়া পাহাড়ের গায়ে গর্ত করে কুজানো পদ্ধতিতে নানা প্রকারের বীজ বপন করে যে চাষ হয়, তা-ই পার্বত্য এলাকায় জুমচাষ নামে পরিচিত। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালের শুরুতে জুমিয়ারা পাহাড় নির্বাচন করে। তারপর জঙ্গল কাটা শুরু করে। জঙ্গল কাটার পর তা গ্রীষ্মের প্রখর রোদে শুকানো হয়। মাসখানেক পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পোড়ানো শেষ হলে জুমিয়ারা পোড়া আবর্জনা, গাছপালা পরিষ্কার করে ফেলে। এরপর জুমিয়া পরিবার বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে। মার্চ-এপ্রিল মাসের বৃষ্টিতে পোড়া মাটি নরম হয়ে গেলে মে-জুন মাসে শুরু হয় পাহাড়ে বীজ বপন
