চট্টগ্রামের ২৩টি চা-বাগানে চলতি মৌসুমে চায়ের ফলন নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চা-বাগানমালিক ও বাগান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, গত ছয় মাস ধরে অনাবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমে চায়ের উত্পাদন ব্যাপক হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চা-বাগান সূত্রগুলো জানায়, গত ছয় মাসের মধ্যে যে ক’বার অল্পস্বল্প বৃষ্টি হয়েছে তাতে চা-বাগানের মাটিও ভেজেনি। ফলে টানা শুষ্কতায় চা-গাছের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি ঘটেনি। তারা জানান, সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বর মাসে এক কি দুই দিন চট্টগ্রামের চা-বাগানগুলো কাঙ্ক্ষিত মাত্রার বৃষ্টি পেয়েছিল। এরপর মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও চা-গাছের গোড়া ভেজানোর মতো বৃষ্টি মেলেনি টানা ছয় মাস। ফলে মাটি শুকনো খটখটে হয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের চা-বাগানগুলোতে এবারের ফলন গত বছরের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম হবে বলে মনে করছেন তারা। তবে বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ১৪২টি চা-বাগান পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত পেয়েছে। ফলে সেখানকার চা-বাগানগুলোতে কাঙ্ক্ষিত উত্পাদন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক কাজী এরফান উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে, এ সময় যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতও হয় তবু গত ছয় মাসের খরার কারণে চট্টগ্রামে চায়ের উত্পাদন গত বছরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম হওয়ার আশঙ্কা রয়ে যাবে। এ বছর মে মাসে তীব্র গরম চা-গাছের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। কিছুতেই চা-গাছের গোড়ায় আর্দ্রতার ছোঁয়া মেলেনি। তার ওপর চা-গাছের অনুকূল বৃদ্ধির জন্য চা-বাগানগুলোতে যে তাপমাত্রার প্রয়োজন ছিল, দাবদাহ এবং বাতাসে জলীয়বাষ্পের অভাব চা বাগানগুলোর জন্য বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমের প্রথম নিলামগুলোতে চায়ের মূল্য কাঙ্ক্ষিত হারে পাওয়া যায়নি বলে জানান চা উত্পাদনকারী বাগান মালিকরা। তারা জানান, চলতি মে মাসেরই ৩, ১৭ ও ২৪ তারিখে চট্টগ্রামে তিনটি নিলাম হয়ে গেছে। মৌসুমের শুরুতে এসব নিলামে উন্নতমানের নতুন চা-পাতা তোলা হয়েছিল। আশা করা গিয়েছিল বিভিন্ন গ্রেডের চা-পাতায় যথাক্রমে প্রতি কেজি ২৭০ টাকা, ২৮০ টাকা ও ২৯০ টাকা মূল্য পাওয়া যাবে। কিন্তু দেখা গেছে, মূল্য পাওয়া গেছে প্রতি গ্রেডে যথাক্রমে প্রতি কেজি ২১২ টাকা, ২১৫ টাকা এবং ২১৮ টাকা। চা-বাগান ব্যবস্থাপনা সূত্রগুলো জানান, চট্টগ্রামের চা-বাগানগুলো আটটি গ্রেডের ভালো মানের চা উত্পাদন করে থাকে। এর মধ্যে বিটি-২ নামের একটি উন্নত জাতের ক্লোন চারার আবাদই করা হচ্ছে বেশি। এ যাবত্ স্থানীয়ভাবে গবেষণায় ১৮টির মতো ক্লোন জাতের চা-গাছ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাগানসমূহ পছন্দমতো প্ল্যান্ট সংগ্রহ করে আবাদ করছে।
