সাত সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল। রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে যাত্রীদের স্বস্তির কথা জানা যায়। স্বস্তি ফিরেছে পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে। তবে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। প্রথম দিন ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই কম। তবে লঞ্চের চিত্র ছিল ভিন্ন, ছিল যাত্রীর চাপ।
মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে একাধিক যাত্রী বলেন, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে যাতায়াত করতে হয়েছে আমাদের। আর যাত্রা পথে পোহাতে হয়েছে অসহনীয় ভোগান্তি। দূরপাল্লার বাস চলাচলের সিদ্ধান্তে ভোগান্তি কমবে আমাদের। অনেকে বলেছেন, বাড়তি ভাড়া গুনতে হলেও স্বস্তিতে যাতায়াত করা যাবে। তবে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অনেক বাসে স্বাস্থ্যবিধি কার্যত মানা হচ্ছে না।
মহাখালী এনা পরিবহন কাউন্টার মাস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, দূরপাল্লার বাস চলাচলের নির্দেশনা প্রথম দিন হওয়ায় যাত্রীদের চাপ কম। সকালবেলায় যাত্রীদের একটু চাপ ছিল। দুপুরে যাত্রীদের চাপ নেই বললেই চলে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হকের বলেন, এর আগে লকডাউনের পর গণপরিবহন চালু করা হলেও সিংহভাগ গণপরিবহন যাত্রী পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করেনি। কিন্তু ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া ঠিকই তারা আদায় করেছে। সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এক্ষেত্রে তদারকি বাড়াতে হবে।
গত রবিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দূরপাল্লার বাস চলাচলের জন্য ৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে কোনোভাবেই আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না, ৬০ শতাংশের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বাস মালিক ও শ্রমিকদের জন্য একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
গতকাল ভোর থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে।
গতকাল সকালে কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শন করেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। এ সময় তিনি বলেন, সব বিধিনিষেধ মেনে ২৮ জোড়া ট্রেন চলছে। করোনা সংক্রমণ রোধে টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবেন না। সে সঙ্গে অনলাইনে অর্ধেকের বেশি টিকেট বিক্রি করা হবে না।
কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার বলেন, গতকাল পারাবত এক্সপ্রেস, লোকাল ট্রেন বলাকা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, কর্ণফুলী ও কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। সব টিকিট অনলাইনে দেওয়ায় প্রথম দিন যাত্রী কিছুটা কম ছিল জানান মাসুদ সারোয়ার।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের ৩৬২টি ট্রেনের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে ১০২টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৬০টি লোকাল, কমিউটার ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে।
এদিকে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সদরঘাটসহ ছোটবড় লঞ্চঘাটগুলোতে শুরু হয়েছে কর্মব্যস্ততা। কম দূরত্বের স্থানগুলোতে সকাল থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে।
এমভি শাকিলার কর্মচারী কবির হোসেন জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তাই যাত্রীসংখ্যা একটু বেশি। তবে আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অর্ধেক যাত্রীই পরিবহন করছি।
এ প্রসঙ্গে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার পরিচালক ও সুরভী নেভিগেশনের নির্বাহী পরিচালক রিয়াজ উল কবীর জানান, লঞ্চ চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
