ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে নবজাতক বিক্রি !

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ০০:৪৪

সাভারের আশুলিয়ায় মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ভুল বুঝিয়ে সন্তান প্রসবে বাধ্য করিয়ে ৫০ হাজার টাকায় নবজাতক বিক্রি করার ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি হওয়া কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করে প্রকৃত মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার নিউ মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও চিকিত্সক কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার খোসগড় গ্রামের আব্দুল আজিজ খানের ছেলে মোস্তফা কামাল, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার হাতরুড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ মাস্টারের ছেলে আবু হানিফ, নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বৈলশিং গ্রামের মৃত কুতুবউদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে হানিফ বিন কুতুব, শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা গ্রামের জালাল উদ্দীনের ছেলে মোহাম্মদ সুমন মিয়া এবং নবজাতকটির ক্রেতা সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাহপাড়া থানার নতুন দাতপুর গ্রামের মৃত বরাত আলীর ছেলে অয়েজুল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দম্পতিরা হলেন—রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার সূর্যপাড়া গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী শিখা বেগম ।

পুলিশ জানায়, পেটের ভেতরে বাচ্চা উলটো হয়ে আছে, মা ও শিশু উভয়ের জীবন সংকটাপন্ন তাই দ্রুত প্রসব করাতে হবে এমন ভুল তথ্য গর্ভবতী ও তার পরিবারের সদস্যদের জানায় বাচ্চা বিক্রিকারী চক্রটি। তাই চক্রটির কথামতো বাচ্চা যেহেতু বাঁচবে না তাই সময়ের আগেই প্রসব করাতে রাজি হয় পরিবারটি। তবে বাচ্চা প্রসব করিয়ে সেই বাচ্চা মুহূর্তেই বিক্রি করে দেয় প্রতারক চক্রটি। গত ১৭ মে সন্তান বিক্রির ঘটনা ঘটে ।

আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদ জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঐ ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার এবং নবজাতকটি ক্রয়ের অভিযোগে আরো এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নবজাতকটিকে তার প্রকৃত মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারকৃতদের গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।