কাঠ ফাটা রোদ। ভীষণ গরম। তৃষ্ণায় গলা ফাটে পাখির।
পাখিটি পানি খেতে ছুটল নদীতে। দেখে, মানুষটাও কলসি নিয়ে ছুটছে নদীর দিকে। পানি লাগবে, অনেক পানি লাগবে।
কলসি ভরে মানুষ পানি নিয়ে যায় বাড়ির পথে। পাখিটির তো আর কলস নেই, সে তার এক ঠোঁট পানি নিয়ে ছোটে নীড়ের দিকে। পথে এক গাছ ডাকল, খুব তৃষ্ণা, কেউ একটু পানি দাও গো। পাখি ভাবে, এত বড় গাছ, ওর ঠোঁটের সামান্য পানি ভাগ করে দিলে গাছের তৃষ্ণা মিটবে না। এই ভেবে সে তার সবটা পানি গাছকে দিয়ে দেয়। তাই দেখে গাছের চোখ কৃতজ্ঞতায় ভিজে উঠল। এতটুকুন পাখি, সবটা পানিই দিয়ে দিল আমাকে! আবার পাখিকে কষ্ট করে নদীতে যেতে হবে পানি আনতে।
গাছের মন ভরলেও তৃষ্ণা মেটে নাই। সে এবার পানি চায় মানুষের কাছে। মানুষ ভাবে, পাখির এতটুকু পানি পেয়ে গাছ এত খুশি, আমি কেন শুধু শুধু বেশি পানি দিতে যাব! এই ভেবে মানুষ পাখির এক ঠোঁটের সমান পানি দিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো। মনে মনে ভাবল, ভালোই হলো, আবার নদীতে যেতে হবে না কষ্ট করে পাখির মতো।
এদিকে সামান্য পানিতে গাছের তৃষ্ণা মেটে না। গাছটা মরে যায়।
