অভিনেত্রী নওশাবা। নিজের ভালোলাগা থেকেই অভিনয় শুরু। কাজ করছেন দীর্ঘদিন। তবে এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নিজের কাজের সংখ্যা কম। সেই সংখ্যাটি কম হওয়ারও অনেক প্রতিকূলতার গল্প আছে। বর্তমানে দুটি চলচ্চিত্রের কাজ করছেন। কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এস এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—
‘অমানুষ’ শিরোনামের একটি ছবির কাজ করছি। এছাড়া হইচইয়ের ‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের কাজ করার কথা চলছে। আসলে আমাকে কাজে নিতে তো সবাই ভয় পায়। নিলেও পরে বাদ পড়ে যাই!
এই ভয় পাওয়ার কারণ কী?
আমি নিজেও জানি না যে, কেন তারা ভয় পান। অভিযোগ করছি না, তবে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ করার পর ভেবেছিলাম শুধু ছবিই করবো। কিন্তু সে সময় অনেক ছবি থেকে আমাকে বাদ দেওয়া হয়। এখনো সেই ধারা চলমান রয়েছে। বিচ্ছিন্ন সেই ঘটনার পর হয়তো তারা ভাবেন আমাকে কাজে নিলে দর্শকরা দেখবে না। কিন্তু আমি তো দেখি আমার প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা আগের মতোই আছে।
‘অমানুষ’ ছবিটিতে মিথিলা নিরবের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে কাজ এবং আপনার চরিত্র নিয়ে বিস্তারিত শুনতে চাই—
ছবিটির গল্প বলতে গেলে হলে বসে দেখার মতো। অনন্য মামুন ভাই সেভাবেই নির্মাণ করছেন। ছবিটিতে নিরব, মিথিলা, মিশা ভাইসহ সবাই অনেক সহযোগিতা পরায়ণ ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করছেন। আমি যে চরিত্রটি করছি তেমন চরিত্র হয়তো আগে হয়েছে। কিন্তু একজন নারী ডাকাতের চরিত্রকে একটু ভিন্নভাবে এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।
আপনি ছোট-বড় দুই পর্দাতেই কাজ করছেন। কিন্তু ছোটপর্দার মতো জনপ্রিয়তা বা সরব উপস্থিতি বড়পর্দায় এখনো নেই কেন?
ওই যে আগেই বললাম, ভয়! যখন অনেকেই বললেন, ‘আমার চলচ্চিত্রই করা উচিত।’ আমিও সেই পথে হাঁটা শুরু করলাম। সেই ঘটনার পর কলকাতার ‘একেন বাবু’ করে দুই বাংলায় প্রশংসা পেলাম। তখন ভাবলাম কলকাতা যেহেতু আমাকে গ্রহণ করলো সেহেতু আমার দেশ আরো ভালোভাবে গ্রহণ করবেন। কিন্তু সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরও কেন সুযোগ পাইনি জানি না।
নাটক-ওয়েব সিরিজের অশ্লীলতা নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা চলছে সেটাকে কীভাবে দেখছেন?
হ্যাঁ, এটা খুবই দুঃখজনক। একটি গল্পের প্রয়োজনে যেকোনো দৃশ্য-সংলাপ থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা কতটা যৌক্তিক বা গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটা দেখতে হবে। আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না এমন দৃশ্য ভিউ পাওয়ার জন্য জোর করে একটি চরিত্রে ঢুকিয়ে দেওয়ার আগে আমাদের ভাবতে হবে। আমাদের সুন্দর গল্প তৈরি করে যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে।
উন্মুক্ত মাধ্যমে নাটক রিলিজ হওয়ায় মান দিনদিন কমছে। আপনি এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
আমাদের সংস্কৃতির যারা অভিভাবক, মানে যারা সংস্কৃতির ধারক-বাহক তাদের এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হতে হবে।
এখন ভিউ গুণে স্টার ও নাটকের মান নির্ধারণের চর্চা চলছে। বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?
ভিউ হওয়া মানেই সেটার মান রয়েছে বা স্টার হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি তেমন না। আমার মনে হয় একটা মান বেঁধে দেওয়া দরকার যে, এতটা মান হলে তুমি স্টার হবে বা নাটকটি মানসম্পন্ন হবে। যা ইচ্ছে তা নির্মাণ করলাম, একটুি ঝাকানাকা নাচ করলাম, ভিউ হলো আর স্টার হলাম! এই চর্চা থেকে দূরে সরে আসতে হবে।
নাটকে চরিত্র সংকট দিনদিন প্রকট হচ্ছে। এটা একটি ভালো গল্প তুলে ধরার অন্তরায় নয় কী?
দু-একটি চরিত্র দিয়ে সিনেমাও হয়, কিন্তু সেটা সেই গল্প ডিমান্ড করে। কিন্তু গল্প যে চরিত্রগুলো চায় সেগুলো না নিয়ে দু-একজনকে দিয়ে কাজ করালো গল্প সঠিকভাবে তুলে ধরা কখনোই সম্ভব নয়। এভাবে চলতে থাকলে একদিন দেখা যাবে একজন শিল্পী ও একটি বিড়াল দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
নির্মাতা-শিল্পীরা নিজেস্ব ঘরানার বাইরে কাজ করতে চান না। এই চর্চা নতুন শিল্পী তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মনে করেন না?
এখন নির্মাণের আগেই চিন্তা করা হয় আমার ভিউ বাড়াতে হবে, টাকা তুলতে হবে। এ জন্য অমুককে নিতে হবে। এতে করে বাধ্য হয়ে সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে। একজন যত কাজ জেনেই আসুক তাকে যদি সুযোগ না দেওয়া হয় তাহলে শিল্পী তৈরি হবে কী করে!
