প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ২১:০৩

মালিতে সামরিক অভ্যুত্থান

 রয়টার্স ও আলজাজিরা

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে আবারও সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। সোমবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদলের পর ঐদিনই ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। ক্ষমতা দখলের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট বাহ নদা, প্রধানমন্ত্রী মক্টর ওয়ান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী সোলাইমান ডোকুরেকে আটক করেছে তারা।

মালিতে মাত্র ৯ মাসের মাথায় দ্বিতীয় দফায় এমন ঘটনা ঘটল। সোমবার প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আটকের পর তাদের রাজধানী বামাকোর কাছেই একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ। মালির কূটনৈতিক ও সরকারি সূত্রগুলো বলেছে, সরকারের মন্ত্রিসভা রদবদলের পদক্ষেপে সামরিক বাহিনীর দুই কর্মকর্তা তাদের অবস্থান হারানোর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট বাহ এনদাও, প্রধানমন্ত্রী মোক্তার উয়ান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুলেইমানে দৌকৌরেকে রাজধানী বামাকো থেকে আটক করে নিকটবর্তী কাতির সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গত বছরের আগস্টে সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাকার কেইতাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় মরুভূমির বিশাল এলাকা আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পর্কিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো দখলে থাকার মধ্যে রাজধানীতে পরপর এসব ঘটনায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে চলা অস্থিরতা আরো ডালপালা মেলতে পারে। আগস্টে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বেসামরিক শাসন ফেরানোর লক্ষ্যে এনদাও ও উয়ানকে ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব দেয় সামরিক বাহিনী, কিন্তু তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের ওপর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে যাচ্ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মালির এক সাবেক সরকারি আমলা বলেন, ‘অভ্যুত্থানের স্তম্ভদের পদচ্যুত করা বড় ধরনের ভুল ছিল। সম্ভবত তাদেরকে তাদের নিজ জায়গায় ফেরানোর লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।’

আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতায় ভূমিকা রেখে চলা দরিদ্র দেশ মালিকে পতনের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে প্রতিবেশী দেশ ও পশ্চিমা শক্তিগুলো। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব্ব তাদের উদ্যোগকে জটিল করে তুলেছে।  মালিতে থাকা জাতিসংঘ মিশন দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের নেতাদের ‘অবিলম্বে শর্তহীন’ মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যারা এই নেতাদের আটক করে রেখেছে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের জবাব দিতে হবে। যাদের আটক করে রাখা হয়েছে এক বিবৃতিতে তাদের ‘নিঃশর্ত মুক্তি’ দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।