সাম্প্রতিক সময়ে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে! যে তরমুজ কৃষকের কাছ থেকে ৩০-৪০ টাকায় কেনা, সেই তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। সাধারণত ভরা মৌসুমে অধিক মুনাফার আশায় স্থানীয় ফড়িয়ারা সাধারণ কৃষকদের থেকে একেবারেই নগণ্য দামে খাদ্যশস্য কিনে থাকে। এই খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, কুমড়া, কালোজিরা, পান, সুপারি থেকে শুরু করে ফলমূল বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যেসব পণ্যের খুব বেশি চাহিদা, সেসবই অগ্রাধিকারভিত্তিতে সংগ্রহ করে তারা। শহরের ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য তাত্ক্ষণিক বাজারজাত না করে গুদামজাত করে দাম বৃদ্ধির আশায় থাকে। এভাবে অত্যন্ত সুকৌশলে খাদ্যশস্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কাঁচামালের বাজারে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়। এ সংকট নিরসনে সরকার যখন বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও পণ্যসামগ্রী আমদানি করে, তখন আরেকটি সিন্ডিকেট আমদানিকৃত এসব পণ্যের সিংহভাগ করায়ত্ত করে। তারপর গুদামজাত করে শুরু হয় তাদের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য অপেক্ষা।
ফড়িয়াদের ফসল সংগ্রহের মাধ্যমে কৃষক যেমন প্রতারিত হয়, আমদানিকৃত পণ্যদ্রব্য অবরুদ্ধ করে রাখায় একইভাবে সাধারণ মানুষও হয় ক্ষতিগ্রস্ত। এ অবস্থার উত্তরণে তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগৃহীত ও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যসমূহ বাজারে সুষ্ঠুভাবে ও পর্যায়ক্রমে সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সেইসঙ্গে পণ্য আটকে রেখে কেউ যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখা বিশেষভাবে জরুরি। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজারের সার্বিক অবস্থা যাচাই করে পরিস্থিতি অনুযায়ী ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষককে কৃষিকাজের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ এবং উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করলে তাঁরা লাভবান হবেন সব থেকে বেশি।
তানভীর তানিম
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
