হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া সংলগ্ন গ্রাম গোয়াছনগর। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে যায় শুরু থেকেই। ১৯৭১-এর এপ্রিলের কোনো একদিন আসরের নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে গ্রামের মুক্তিকামী মানুষ যুদ্ধে অংশগ্রহণের ব্যাপারে পরামর্শ করছিল। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিকটবর্তী এই মসজিদটি ঘিরে ফেলে পাকহানাদার নরপিশাচের দল। মুহুর্মুহু গুলিতে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মসজিদ থেকে ১৮ জনকে ধরে নিয়ে একটি ছনের ছাউনি দেওয়া ঘরে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে। কয়েকজন জানালা ভেঙে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের গুলি করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ডক্টর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীনের প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর দেওয়া শহিদ পরিবারপ্রতি এক হাজার টাকা অনুদান ছাড়া আজ অবধি তাঁদের ভাগ্যে আর কিছুই জোটেনি! গোয়াছনগর গ্রামের আয়ুব আলী, আশ্রব আলী, গফুর আলী, শওকত আলী, মোহাম্মদ আলী ও আবদুল আলীসহ ১৮ শহিদ পরিবারের স্বীকৃতির দাবি অযৌক্তিক নয়। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. মাহমুদ হাসান
গ্রাম: নোয়াপাড়া, উপজেলা: মাধবপুর, জেলা: হবিগঞ্জ
