কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে শেষ কবে ডলফিন দেখা গিয়েছিল, স্থানীয় লোকজন সেটা মনে করতে পারেন না। পরিবেশের ব্যাপারে আমরা উদাসীন বলে এইসব জলজ প্রাণী আজ হুমকির মুখে। করোনায় যখন স্থবির ছিল পুরো পৃথিবী, তখন কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পেয়েছিল প্রকৃতি। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাহিদা। এই চাহিদা পূরণের জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। মানুষের চাহিদার আমূল পরিবর্তন এনেছে শিল্প পরিবর্তন, যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে প্রকৃতির ওপর। বাসস্থান ও খেতখামারের জন্য মানুষ বন উজাড় করে দিচ্ছে, গড়ে তুলছে দালানকোঠা, কল-কারখানা। ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে অনেক উদ্ভিদসহ বন্য প্রাণী। ফসল উত্পাদনে রাসায়নিক সার ব্যবহার করায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, কারখানার ধোঁয়া ছড়িয়ে দূষিত করছে বায়ু। কল-কারখানার বর্জ্য নদী হয়ে মিশে যাচ্ছে সাগরে আর হারিয়ে যাচ্ছে জলজ জীবন। প্রকৃতির এই দুরবস্থা আমাদের জনজীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তাই পরিবেশ রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ মানুষকেই নিতে হবে, জীবন ধারণে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে পরিবেশবান্ধব।
নূর মোহাম্মাদ আরিফ
সোনাতলা, বগুড়া
