পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ড

খুন নয়, শিক্ষা দিতে বলেছি

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ২১:৫০

হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা সাবেক এমপি এম এ আউয়াল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। যদিও পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আউয়াল বারবার বলছেন, ‘সুমনকে আমি বলেছি, সাহিনুদ্দীনকে শিক্ষা দিতে। কিন্তু হত্যা করতে বলিনি।’ তবে সুমন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, আউয়ালের নির্দেশেই সাহিনুদ্দীনকে হত্যা করা হয়েছে। সাবেক এমপির উপস্থিতিতে তার কলাবাগানের অফিসে হত্যার পরিকল্পনা হয়।  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আউয়াল এতদিন মুখ না খুললেও এখন কিছু কিছু স্বীকার করছেন। যদিও হত্যার দায় এখনো তিনি স্বীকার করেননি। শুধু বলছেন, আমি ওদের শিক্ষা দিতে বলেছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি ঐ এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি জমি-জমার এই ঝামেলা মেটাতে উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেটাতে পারেননি। এখনো ছয় জন রিমান্ডে আছে। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

গত শুক্রবার সাবেক এমপি আউয়ালকে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ছিল রিমান্ডের শেষ দিন। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার না করায় বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে ফের রিমান্ডের আবেদন জানাবে পুলিশ।

এর আগে সাহিনুদ্দীন হত্যা মামলায় গ্রেফতার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সুমন বলেছে, ঘটনার চার দিন আগে অর্থাত্ ১২ মে সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের কলাবাগানের অফিসে মোহাম্মদ তাহের ও সুমন এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। মাঠ পর্যায়ে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুমনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সুমন সক্রিয়ভাবে কিলিং মিশনে অংশ নেয়। এ সময় বেশ কয়েক জন কিলিং মিশনে জড়িত ছিল। সুমন, বাবুসহ কয়েক জন একটা মিটিং করে। এরপর ঘটনার দিন তারা মীমাংসার অজুহাতে সাহিনুদ্দীনকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠায়। এ সময় সাহিন তার সাত বছরের শিশুসন্তান মাশরাফিকে নিয়ে সেখানে যান। যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসী সুমন, মানিক, হাসান, ইকবালসহ ১০-১২ জন সাহিনকে তার ছেলের সামনে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।