পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ২২:৩৪

নাটোরে এডিবির অর্থায়নে সিংড়া উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি অফিস ভবন পরিদর্শন, বাংলো মেরামত ও সংরক্ষণ কাজে নিম্নমানের টাইলস ব্যবহারে সম্মত না হওয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হানকে মারপিট ও অফিসে ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ নেতা ঠিকাদার মীর আমিরুল ইসলাম জাহানের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর নাফিউল ইসলাম অন্তর। এ ঘটনায় নাফিউলকে আসামি করে নাটোর সদর থানায় মামলা করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান। গত সোমবার বিকাল সোয়া ৫টার এ ঘটনায় মামলা করা হয় রাত সোয়া ১১টায়। মামলায় ঘটনার সময় ঠিকাদার মীর আমিরুল ইসলাম জাহান ও তার ম্যানেজার  রাজিবের উপস্থিতির কথা বলা হলেও তাদের আসামি করা হয়নি। মীর আমিরুল ইসলাম জাহান পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। গতকাল বিকালে অন্তরকে আটক করে পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস চত্বরে একটি প্রকল্প কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পান রংপুরের ঠিকাদার হাসিবুল হাসান। তার প্রতিনিধি হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করছিলেন নাটোরের ঠিকাদার অন্তর ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে আমিরুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হানকে ফোন করে জানান, তার নির্দেশিত টাইলস ভবনে লাগানো যাবে না। ঐ টাইলস লাগালে খরচ বেশি হবে। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে তিনি ও তার ছেলে অন্তর, ম্যানেজার রাজিব হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে অন্তর হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকৌশলী আবু রায়হানের গলা চেপে ধরেন এবং কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এতে তার ঠোঁট কেটে রক্তপাত হয়। এ সময় অফিসের অন্যারা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। তাকে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়ার পর তাকে রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়। অন্তরের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, আমি জেনেছি আমার মামলায় হত্যাচেষ্টার ধারা যুক্ত করা হয়নি এবং শুধু একজনকে আসামি করা হয়েছে। তার কোনো অভিযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি  তো আইনের এতসব বুঝি না। পুলিশ সব কিছু দেখছে।

অন্তরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তার পিতা আমিরুল ইসলাম প্রকৌশলীকে মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে বয়সে তরুণ। রাগের মাথায় শুধু কথা কাটাকাটি করেছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়নি। আমার ছেলেকে তারা বিভিন্ন সময় কাজ দেওয়ার কথা বলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশে অন্যদের কাজ দিয়ে দিয়েছে। গতকালও কাজের কথা নিয়েই এক পর্যায়ে বাগিবতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাটোর সদর থানার ওসি তদন্ত আব্দুল মতিন বলেন,  মামলার ধারা বসিয়েছেন ওসি স্যার, আমি শুধু তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে মোতাবেক চার্জশিট দেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘কর্তব্যরত অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি কাজে বাধা প্রদান, মারধর ও হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করে প্রকৌশলী আবু রায়হান মামলা করেছেন। তবে হত্যাচেষ্টার ধারা ভুলবশত বাদ পড়তে পারে। পরবর্তী সময় আমরা এটা সংযুক্ত করে দেব।