ফলন কম হওয়ায় বিপাকে পাবনার লিচুচাষিরা!

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ২০:৪৩

বৈরী আবহাওয়া

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চর সিলিমপুর গ্রামের লিচুচাষি ও মৌসুমি লিচু ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম ভালো দাম পেয়ে খুশি হলেও লিচুর ফলন বিপর্যয়ে আশানুরূপ লাভ হবে না বলে জানান। প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে এ বছর সালাম তিনটি বাগান কেনেন। এসব বাগানে প্রায় দেড় শতাধিক লিচুগাছ আছে। সালাম সোমবার বলেন, ‘প্রতি বছর একটি বড় গাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লিচু পাওয়া যায়। তবে, এবার ফলন বিপর্যয়ের কারণে বড় গাছ থেকে ১০-১২ হাজারের বেশি লিচু পাওয়া যাচ্ছে না। ফলন বিপর্যয়ের কারণে এখন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ একই অবস্থা চর সিলিমপুর গ্রামের লিচু বাগানমালিক ও ব্যবসায়ী মো. দুলাল হোসেনের।

পাবনা সদরের তিনগাছা এলাকার কয়েক জন ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ বছর প্রচণ্ড খরার কারণে লিচুর বেশির ভাগ মুকুল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। অতিরিক্ত খরার কারণে লিচুগুলো বড় হওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় অনেক লিচু গাছে ফেটে নষ্ট হয়ে যায়। ফলনের সময় ঝড়ের কারণে ক্ষতি না হলেও এবার খরার কারণে গাছেই নষ্ট হয়ে গেছে বেশির ভাগ লিচু।’ আটঘরিয়া উপজেলার ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় লিচু বাগানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ লিচুর ফলন হয়েছে আর বাকিটা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা সার ও বিষ দিয়ে ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করলেও প্রকৃতি অনুকূলে না থাকায় এ বছর লিচুর ফলনবিপর্যয় হয়েছে।

পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৭২৬ হেক্টর জমির মধ্যে লিচুর রাজধানী নামে সারা দেশে পরিচিত ঈশ্বরদীতেই ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। এছাড়া পাবনা সদর, চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় ১ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। পাবনা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল কাদের ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ বছর পাবনায় লিচু উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার টন।’ তবে, অতিরিক্ত খরার কারণে এ বছর কিছুটা ফলন বিপর্যয় হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। তার মতে, খরার কারণে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লিচুর ক্ষতি হয়েছে।