বাংলাদেশি কেউ ইসরাইলে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা :পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ২১:৩৯

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাই কোনো বাংলাদেশি ইসরাইলে প্রবেশ করতে পারবে না। সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ ইসরাইলে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল বুধবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানের কাছে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য চিকিত্সা সামগ্রী ও সরঞ্জামাদি হস্তান্তরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি যেমন ছিল, এখনো তেমনই আছে। সরকার কাউকে ইসরাইল ভ্রমণের অনুমোদন দেয়নি। আমরা আইনগতভাবে এ ব্যাপারে খুবই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছি। আর সবাই তা জানে। তিনি  বলেন, এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমাদের ইমিগ্রেশন বিভাগ তাত্ক্ষণিক তাদেরকে আটকে দেবে। ইমিগ্রেশন এসব দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে।

পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে নতুন ইস্যুকৃত বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের যে কোনো দেশে ভ্রমণ করা যাবে’ কথাটি তুলে দেওয়ার ফলে এক ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ড. মোমেন বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরাইল শব্দটি বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা কয়েক মাস আগে পাসপোর্ট বৈশ্বিক মান অনুযায়ী করেছি। কিন্তু ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যুতে আমাদের অবস্থান থেকে সরে যাইনি। যতদিন পর্যন্ত সত্যিকারের স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেব না। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, পাসপোর্ট একটি দেশের নাগরিকদের পরিচয় বহন করে। কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে পাসপোর্টের কোনো সম্পর্ক নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের প্রকৃত বন্ধু। আমি পাঁচ বছর বাংলাদেশে আছি। গত ১৪ দিন ধরে বাংলাদেশের মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। গাজায় ইসরাইলি হামলার পর এই দেশের মানুষ আমাদের বিপুলভাবে সহায়তা করেছে। আমরা বিপুল পরিমাণে অর্থ সহায়তা পেয়েছি। বাংলাদেশ সরকার আমাদের দুটি ব্যাংক হিসাব করতে সহায়তা করেছে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়েও টাকা পেয়েছি। আমরা এই সহায়তা গাজায় পাঠাব।

গতকাল বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে দেওয়া ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ সামগ্রী ফিলিস্তিনকে উপহার দেওয়া হয়। বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম এসব ওষুধ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। জর্ডানের মাধ্যমে এ মানবিক সহায়তা ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য পাঠানো হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।