নজর থাকবে স্থানীয় শিল্পের প্রসারে

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ২১:৩৯

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় শিল্পোদ্যোগকে উত্সাহিত করতে কিছু ক্ষেত্রে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ছাড়ের পথে হাঁটছে সরকার। নতুন করে স্থানীয়ভাবে কম্পিউটার এবং এর যন্ত্রাংশ, স্ক্যানার, প্রিন্টার বা এজাতীয় ইলেকট্রনিকস পণ্য উত্পাদনে ভ্যাট অব্যাহতি দিতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি খাত এই সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোনসেটসহ যেসব খাতের উত্পাদন পর্যায়ে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাটের (৫ শতাংশ) সুবিধার মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হতে যাচ্ছে, তা বাড়তে যাচ্ছে আরো তিন বছর। স্থানীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স (গৃহে ব্যবহূত ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য তৈজসপত্র) শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতির সুবিধাও দেওয়া হতে পারে। আগামী তিন জুন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে এসব প্রস্তাব দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, স্থানীয় শিল্পকে এসব সুবিধা দেওয়া হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে। অন্যদিকে এর ফলে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগও উত্সাহিত হবে।

বর্তমানে দেশে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার ও এজাতীয় ইলেকট্রনিকস সামগ্রী উত্পাদন করে থাকে। এনবিআরের ভিন্ন ভিন্ন আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে কয়েকটি খাত ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা পাচ্ছে। এ তালিকায় কম্পিউটারসহ কিছু যন্ত্রাংশ থাকলেও এইচএস কোড (পণ্য পরিচিতি নম্বর) সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক যন্ত্রাংশ এই সুবিধার বাইরে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে এই সুবিধা দিলে প্রাথমিকভাবে দু-একটি কোম্পানি তা নেবে। তা সত্ত্বেও এই সুবিধা দেওয়া দরকার। তাহলে অন্যরা এ খাতে বিনিয়োগে উত্সাহিত হবে। তবে স্থানীয় উত্পাদন উত্সাহিত করতে কেবল ভ্যাট অব্যাহতিই যথেষ্ট নয়। এর বাইরে আরো কী ধরনের বাধা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে কেবল ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে না।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, কম্পিউটারের অনেকগুলো যন্ত্রাংশ রয়েছে। পণ্য পরিচিতি কোড (এইচএস কোড) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থানীয়ভাবে তৈরির ক্ষেত্রে অনেক যন্ত্রাংশে বেশি অঙ্কের শুল্ককর পরিশোধ করতে হয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় শিল্পকে ভ্যাট অব্যাহতি কিংবা হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট প্রদানের সুযোগ অব্যাহত রাখা হলে তা আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। নতুন নতুন খাত এই সুবিধার আওতায় এলে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে ঐ সব পণ্য দাঁড়াতে পারবে। তৈরি পোশাক খাতের সফলতার মডেল অন্য খাতেও প্রয়োগ করা দরকার। শক্তভাবে উদ্বুদ্ধ করা গেলে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়বে। তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে। ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

বাজেট-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এখন আইনগত দিক পর্যালোচনা (আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং) করা হচ্ছে।