প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজননক্ষেত্র হাটহাজারীর হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা-মাছ। প্রতি বছরের মতো এবারও হালদা নদীতে উত্সবের আমেজে ডিম সংগ্রহ করছেন স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা। বুধবার দিবাগত রাত থেকে মা-মাছ হালদা নদীতে পরিপূর্ণভাবে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদীর সত্তার ঘাট, অংকুরী ঘোনা, মদুনাঘাট, গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, নাপিতের ঘোনা ও মার্দাশা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মা-মাছ ডিম ছেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আর ডিম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে হালদা পাড়ে বসেছে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা। ডিম আহরণকারীরা দুপুরের পর থেকে ডিম সংগ্রহ করে তীরে আসতে শুরু করবেন। তখন কত ডিম সংগ্রহ হয়েছে সেটা জানা যাবে। ৩৫০টি নৌকা নিয়ে দেড় হাজারের অধিক সংগ্রহকারী ডিম সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে। কেউ কেউ এবার ভালো পরিমাণে ডিম সংগ্রহ হবে মনে করছেন, তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল শিক্ষার্থী হালদা নদীর পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, বর্তমানে এ নদীর পানিতে লবণের পরমািণ দশমিক ৪১, যা সাধারণ মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। পানিতে লবণ শনাক্ত হওয়ায় এবং ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতের কারণে মা-মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে না বলে জানান স্থানীয় অনেক ডিম সংগ্রহকারী। তারা বলেন, যে কোনো প্রাকৃতিক বিপত্সংকেত হলে মা-মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ে না। লবণের কারণে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে পাওয়া নমুনা ডিমও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। প্রথমে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নমুনা ডিম ছাড়ে মা-মাছ। ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, মঙ্গলবার কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘সাধারণত পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথিতে ভারীবর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢল নামলেই মা-মাছ ডিম ছাড়ে। তবে ব্যতিক্রমও হয়। সাধারণত নদীর পরিবেশ ডিম ছাড়ার উপযুক্ত হলেই মা-মাছ ডিম ছেড়ে দেয়। আর পরিবেশ উপযুক্ত কি না সেটা দেখতে প্রথমে অল্প পরিমাণে ডিম ছাড়ে। সেটাকে স্থানীয়রা নমুনা ডিম বলে থাকেন। সংগ্রহ করা ডিম থেকে রেণু ফোটানো হবে। পরিচর্যার মধ্য দিয়ে সেই ডিম থেকে পোনা হবে। ডিম ফোটানোর জন্য দুই উপজলোর চারটি সরকারি হ্যাচারি ও ১৫০টি মাটির কুয়ায় রেণুপোনা ফোটানোর জন্য নানা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরো কুয়া প্রস্তুত আছে।’
হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা রনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে হালদায় ডিম ছেড়েছে মা-মাছ। আমরা সার্বক্ষণিক ডিম সংগ্রহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ডিম সংগ্রহের পর হ্যাচারিতে পরিচর্যার ব্যাপারে আমাদের টিম সক্রিয় আছে।’
চট্টগ্রাম জেলা মত্স্য অফিসার লাভলী আক্তার বলেন, ‘ডিম সংগ্রহের পর হ্যাচারতে পরিচর্যার ব্যাপারে আমাদের টিম সক্রিয় আছে।’
