ব্যাংকের শেয়ার হঠাত্ করেই দাপট দেখাতে শুরু করেছে। এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ডিএসইর বাজার মূলধনে বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে। গতকাল মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। সূচকের বড় উত্থান ও লেনদেন বাড়াতেও প্রধান ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক। তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টির শেয়ার দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। আর লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি স্থানই রয়েছে ব্যাংকের দখলে। ব্যাংক এমন দাপট দেখানোর কারণে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ১০১ পয়েন্ট। লেনদেন বেড়ে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় চার মাস পর ডিএসইতে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে।
এদিকে, বাজার মূলধনে রেকর্ড হওয়ার দিনে বৃস্পতিবার ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অর্থাত্ একদিনে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বাজার মূলধন। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ডিএসইর বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ছিল। ঐদিন ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১০১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯৮৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। ডিএসইর প্রধান এ সূচকটি তিন বছর তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠল। অন্যদিকে প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৮৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম হুহু করে বাড়াতে থাকে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও বাড়তে থাকে। এতে দফায় দফায় দাম বাড়িয়েও অনেক কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেননি কিছু বিনিয়োগকারী। দেখতে দেখতে প্রায় দেড় ডজন কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়। এর পরও এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের বিক্রেতা সংকট দেখা দেয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দুই শতাংশের ওপরে দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নেয় ১০৭টি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ৫ শতাংশের ওপরে দাম বেড়েছে ৪৮টির। আর ৯ শতাংশের ওপরে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ২২টি।
শতাধিক প্রতিষ্ঠানের দাম দুই শতাংশের ওপরে বাড়লেও গতকাল ডিএসইতে দাম কমা শেয়ারের সংখ্যাও কম নয়। দেখা গেছে, দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৩টির। আর ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
রেকর্ড বাজার মূলধন ও সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনও হয়েছে বড় অঙ্কে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। ১৭ জানুয়ারি বাজারটি লেনদেন হয় ২ হাজার ৩৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর পর ডিএসইতে আর ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়নি। বড় অঙ্কের লেনদেনের দিনে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৯৬ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, নর্দান ইসলামি ইনসিওরেন্স, সাউথইস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রিন ডেলটা ইনসিওরেন্স এবং পাইওনিয়ার ইনসিওরেন্স।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১০৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৫টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
