করোনা ভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া ও নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যাংক এশিয়ার পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি এবং শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিয়াউল হাসান মোল্লা। অনুষ্ঠানে ব্যাংক এশিয়ার পক্ষ থেকে দুই জন নারীসহ মোট আট জন উদ্যোক্তার মধ্যে ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে সারা দেশে লাখ লাখ উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উদ্যোক্তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, একই উদ্যোক্তা যেন বারবার প্রণোদনার সুবিধা না পায়, যেসব উদ্যোক্তা প্রথম প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পাননি তাদের খুঁজে বের করে ঋণের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি বলেন, সারা বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করা বিশেষ করে এসএমই খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকার অনেকগুলো প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। তার মধ্যে পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গ্রামীণ এলাকায় ঋণদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের নিমিত্ত ১৫০০ কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করে। মূলত ব্যাংক ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে এ ধরনের বিভিন্ন সংস্থার ঋণ কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া এবং দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অব্যাহত রাখতে এ প্রণোদনা ঘোষণা করে। এসএমই ফাউন্ডেশন এ অর্থবছরে ছাড়কৃত অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত এবং পিছিয়ে পড়া উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৫০টি এসএমই ক্লাস্টার, ৫০-এর অধিক চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তাগণ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। প্রথম দফার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ না পাওয়া পল্লি ও প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাগণকে ঋণ প্রদান করবে। মোট ঋণের ২৫-৩০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
