ওটিটি নিয়ে এখনই সচেতন হতে হবে

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ২১:৩১

বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

বঙ্গবন্ধুর ‘বায়োপিক’-এর কাজ করছি। পাশাপাশি ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবির কাজ শেষ করলাম। এছাড়া নিজের বিজ্ঞাপনী সংস্থা নিয়ে ব্যস্ততা চলছে।

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ও অপারেশন সুন্দরবন ছবি দুটি নিয়ে জানতে চাই—

অপারেশন সুন্দরবন ছবিটিতে সুন্দরবনকে র্যাব কীভাবে জলদস্যু মুক্ত করেছে সেই প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরা হয়েছে। এতে আমাকে র্যাবের চরিত্রে দেখবেন দর্শকরা। আর বায়োপিক নিয়ে বলবো আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে অনেক বড় পরিসরে, বড় আয়োজনের একটি কাজ। দারুণ একটি টিমের সঙ্গে শ্যাম বেনেগালের মতো পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে মনে করি।

এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ চলচ্চিত্রে আগের মতো সরব নন। এর কারণ কী?

সরব না থাকার পছেনে নানা কারণ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ভালো গল্পের অভাব, ভালো পরিচালকের অভাব। এছাড়া কাজ সেভাবে না পাওয়াও একটা কারণ। যে সকল পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতাম তারাও কাজ পাচ্ছেন না। এখন যারা কাজ করছেন তারা আমাদের সেভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন না।

এমন অবস্থা কেন তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন?

এক ধরনের মাইন্ড সেটআপ নিয়ে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি চলার কারণে সেভাবে উন্নত হয়নি। বলতে পারেন, আমাদের উপযুক্ত শিক্ষা, ইনস্টিটিউশন ও পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে।

ক্যারিয়ারের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়ার প্রবণতা শিল্পীদের মাঝে লক্ষ্য করা যায়? এতে অভিনয়ে মনোযোগ কমে যায় বলে মনে করেন না?

না, এটা বাজে কথা। একজন শিল্পী যখন সিনেমাতে ভবিষত্ দেখতে পায় না তখন সে অন্য পথে পা বাড়ায়। কারণ বেঁচে থাকতে হলে তো আর্থিক নিশ্চয়তাও দরকার আছে। যখন আমার সিনেমা ছাড়া কোনো কাজ না থাকবে তখন কিন্তু বেঁচে থাকতে বাজে সিনেমাও করতে হবে। এটা তো সম্ভব না।

সিনিয়ররা দূরে থাকায় চলচ্চিত্র আরো মেধাশূন্য হচ্ছে বলে মনে করেন না?

সিরিয়রদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দিনের পর দিন চলচ্চিত্রকে মেধাশূন্য করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চলচ্চিত্রে অনেক মেধাবী মানুষ আছেন, কিন্তু তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে না। মেধাহীনরাই রাজত্ব করছে।

আপনাদের সময় একাধিক স্টার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন সেভাবে স্টার তৈরি না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে কী বলবেন?

এটা আমাদের পরিচালকরা তৈরি করেছেন এবং তারাই এখন সেটা নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন।

অনেকেই বলেন সিনিয়ররা ভাই বা বাবার চরিত্রে কাজ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। এটা এক ধরনের হীনমন্যতা কি-না?

এটা হীনমন্যতা না। ভাই বা বাবা হতে তো কোনো সমস্যা নেই। আপনি এমন একটি গল্পে আমাকে কাজ করতে বললেন, কিন্তু সেই চরিত্রের কোনো গুরুত্ব নেই তাহলে সেই চরিত্রে একজন নায়ক কেন কাজ করবে! এটা পরিচালকের ব্যর্থতা বলবো।

ওটিটি মাধ্যমের যাত্রা শুরু থেকেই নেতিবাচক আলোচনায় রয়েছে। এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য কতটা ফলপ্রসূ বলে মনে করেন?

দেখুন, নেতিবাচক আলোচনা যা-ই থাকুক, এই মাধ্যমটির সঠিক ব্যবহার করতে পারলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো হবে। কারণ এটা অনেক বড় একটি মাধ্যম। এই মাধ্যমটির বাজার ধরতে পারলে আমাদের টাকা বাইরে যাবে না। তাই ওটিটি নিয়ে এখনই সচেতন হতে হবে। এখানে মেধা চর্চা ও ভালো কাজের একটি সুযোগ আছে। সেটা বাইরের দেশেরও প্রভাব ফেলতে পারে।

চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নানা সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?

নির্মাণ কম হলেও আগের চেয়ে চলচ্চিত্রের বাজেট এখন বেড়েছে। তারপরও দিনদিন হল বন্ধ হচ্ছে। আমার মনে হয় এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যোগ্য লোকদের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। চলচ্চিত্রের মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমাদের সংস্কৃতিবান্ধব সরকারের সঙ্গে চলচ্চিত্রের মানুষদের বসে একটা সঠিক উপায় খুঁজে বের করতে পারলে চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করি।