করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি বিবেচনায় চীনের সিনোফার্মের তৈরি দেড় কোটি ডোজ সার্স কোভ-২ টিকা সরাসরি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। অর্থাত্, প্রতি ডোজ টিকার দাম পড়বে প্রায় ১০ ডলার। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে সার্স কোভ-২ ভ্যাকসিন ক্রয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এতে আগামী জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাসে ৫০ লাখ করে মোট দেড় কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করবে চীনের সিনোফার্ম। টিকা ক্রয়ের সঙ্গে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্ত আছে কি না, এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমাদের দেশি কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। চীন সরকারের সঙ্গে সিনোফার্ম কোম্পানির চুক্তির মাধ্যমে টিকা সরবরাহ করা হবে।’
আগামী বাজেট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবার স্বার্থ দেখেই আমরা বাজেট করছি। পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষকে সঙ্গে রেখেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’ বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো সুখবর আছে কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এসব বিষয়ের জন্য বাজেট ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমরা এখনই কোনো তথ্য ডিসক্লোজ করতে পারব না। তবে বলতে পারি, আমাদের লক্ষ্যই থাকবে দেশের মানুষকে বাঁচানো, ব্যবসায়ীদের বাঁচানো।’ শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কত দিচ্ছি, আগামী সভায় সেটা আলোচনা করব।’ ভ্যাকসিনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ বিষয়ক কাজগুলোর মধ্যে যেগুলো মন্ত্রণালয় করতে পারে, সেগুলো তাদের দায়িত্বে দিয়েছি। আমরা অর্থনীতিসংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন দিয়েছি।’
ক্রয় কমিটির বৈঠকে ছয় প্রস্তাব অনুমোদন
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মোট ৯টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও ছয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার অধীনে রামপুরা থেকে ভাটারা হয়ে এয়ারপোর্ট রোড, উত্তরা, গুলশান, বনানী, কচুক্ষেত পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার পরিশোধিত পানির ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপনের কাজ চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৮৯ কোটি ৩১ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার পরিবেশবান্ধব পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাপেক্স কর্তৃক রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি গ্যাজপ্রমের কাছ থেকে ভোলা জেলায় টার্ন-কি পদ্ধতিতে তিনটি কূপ খননের কাজে ৬৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উত্সমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের পিএস ওয়ান প্যাকেজের আওতায় ৪৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিস্টেমসহ রাডার স্থাপনের কাজ ফ্রান্সের তালিস এলিনিয়ার কাছ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদীতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ এবং ১৪ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজে খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে ৩৬৭ কোটি ২৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সরকারি ক্রয়ের কাজে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরো বেশি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব তোলা হয়।
