রাবির সেই উপাচার্যের ব্যাংক হিসাব তলব

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ২২:০৩

নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত সদ্য সাবেক উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল-সিআইসি। গত সোমবার এক চিঠিতে দেশের সব তপশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে চিঠি পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত সব ধরনের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও জরিমানা ও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হবে বলে চিঠিতে বলা হয়।

এম আব্দুস সোবহানের পাশাপাশি তার স্ত্রী মনোয়ারা সোবহান, পুত্র মুশফিক সোবহান, কন্যা সানজানা সোবহান ও জামাতা এ টি এম সাহেদ পারভেজের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়। সিআইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতিসহ অন্য আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানা প্রয়োজন।

চিঠিতে আলোচ্য ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, গত ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের যে ব্যাংকে তাদের যে কোনো ধরনের ব্যাংক হিসাবের সব লেনদেনের বিস্তরিত তথ্য জানাতে বলা হয়। এতে বলা হয়, পূর্বে আরম্ভ হয়ে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হিসাব বন্ধ হয়ে গেলে বা সুপ্ত অবস্থায় থাকলেও ঐ সব তথ্যও পাঠাতে হবে।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার দিয়ে বলা হয়, এই তথ্য সরবরাহে অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে এককালীন ২৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ৫০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। এর সঙ্গে ফৌজদারি কার্যক্রমও নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত,  এম আব্দুস সোবহান তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে ১৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন। এ নিয়ে ঐ দিনই চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ভিসিকে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয়। পরদিন দেশের গণমাধ্যমে এই খবর ফলাও করে ছাপা হয়। এর মধ্যেই সাবেক এই ভিসির বিভিন্ন অনিয়মের খবর আসতে থাকে। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের শত শত কোটি টাকার দরপত্রেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যে নিয়োগসহ এসব অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমন আলোচনার মধ্যেই এনবিআরের সিআইসি তার ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করল।