দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দুই জন ব্যক্তির শরীরে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন বারডেম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লাভলি বাড়ৈ। এরমধ্যে একজন মারাও গেছেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঐ দুই রোগী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত নয়। অধিদপ্তরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, কেউ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষা করার যন্ত্র নেই বারডেম হাসপাতালে। নিশ্চিত না হয়ে অতি উত্সাহী হয়ে কিছু বলা ঠিক না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে আরো দুই-এক দিন লাগবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কোনো কিছু সন্দেহ হলে তা সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হয়। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির রয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত না করেই বারডেমের ঐ চিকিত্সক দুই জন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এটা নিয়ে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা মোটেও ঠিক হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ঐ দুই রোগী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইইডিসিআরকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, বারডেম হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে কোনো কিছুই জানায়নি। তারা নিজেরাই দুই জন রোগী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে। আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। পরে বারডেমে খোঁজ-খবর নিয়েছি। তারা আদৌ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত হতে আরো দুই একদিন সময় লাগবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ বলেন, প্রতি বছর দেশে চার-পাঁচ জন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এই রোগ আগে থেকেই আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, সাধারণত পঁচনশীল জাতীয় খাদ্য থেকে এটি হয়ে থাকে। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনিয়ন্ত্রিক ডায়াবেটিস রোগীদের এটি হতে পারে। করোনা পরবর্তী সময়েও হতে পারে।
