সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সারা দেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব ও সহিংসতার কারণে ট্রেনের যাত্রাবিরতি স্থগিত রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে। এমনকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া তিতাস কমিউটার ট্রেনটিও এই স্টেশনে যাত্রাবিরতি স্থগিত রেখেছে। এতে যেমন যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন, সেসঙ্গে স্টেশনে যাত্রীদের ওপর জীবিকা নির্বাহ করা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্টেশনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০-২৫ জন মুচি স্টেশনে কাজ করে সংসার চালান। শ্রীনদ্র লাল নামের ঋষি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের অনেকেরই একমাত্র আয়ের উত্স ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন। কিন্তু স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
কিরণ চন্দ্র বসু নামের আরেক জন বলেন, স্টেশনে জুতা পালিশ, জুতা সেলাই করে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা রোজগার করতাম। তা দিয়ে চার ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনোরকমে সংসার চালিয়ে নিচ্ছিলাম। কিন্তু হেফাজতের তাণ্ডবের পর এ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
ঋষি সম্প্রদায়ের আরেক যুবক বলেন, করোনাকালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনের জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে বিভিন্ন অনুদান দেওয়া হলেও আমরা বঞ্চিত। মুচির ঘরে জন্মগ্রহণ করায় শিখেছি মুচির কাজ। প্রায় ১৫ বছর ধরে এ পেশায় নিয়োজিত। অনেক লাঞ্ছনা, মারধর উপেক্ষা করেও এই পেশাকে আঁকড়ে পড়ে আছি। কিন্তু স্টেশনে ট্রেন না থামায় খুব বিপাকে পড়েছি। আমাদের দিকে তাকানোর মতো কেউ নেই।
