তাহিরপুরে নির্মাণের পরই ভেঙে পড়েছে সড়ক

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ২২:০৮

তাহিরপুর উপজেলার বাগলী হতে মধ্যনগরের সীমান্তবর্তী বাঙ্গালভিটা পর্যন্ত সড়কের ১ হাজার ৫০০ মিটার অংশের ইট সোলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বছরখানেক আগে। কিন্তু নির্মাণের পর পরই দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন এই সড়কটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়। ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইটের সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের এহেন অবস্থার পরও ঠিকাদার চূড়ান্ত বিলের জন্য কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নেত্রকোনার পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলাবাসীর সঙ্গে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাবাসীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির টহলের সুবিধার জন্য ২০১৯ সালে তাহিরপুর উপজেলার বাগলী হতে বাঙ্গালভিটার মাটির সড়কের ১ হাজার ৫০০ মিটার অংশে (প্রায় দেড় কিলোমিটার) ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের সোলিংয়ের কাজ করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এই কাজের দেখভালকারী প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরুতেই কথা ওঠে যে, হক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি মাত্র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজের দরপত্রে অংশ নিয়েছে এবং তারাই এই কাজ পেয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি এই কাজ করার সময় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করেছে এবং ইটের নিচে শর্ত মোতাবেক বালু দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সড়কের দুই পাশে মাটিও ঠিকমত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।  এলাকার অনেকেই জানান, সীমান্তের পাহাড়ি ঢল এবং হাওরের ঢেউ ঠেকাতে সড়কের দুই পাশে বাঁশের আড় ও প্যালাসেটিং প্রাক্কলন অনুযায়ী করা হয়নি। এ কারণে সড়কটির অনেক অংশই ভেঙে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

বাগলী গ্রামের বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, সীমান্তের মানুষের স্বপ্নের সড়ক এটি। অথচ সড়কটির নির্মাণকাজের সময় তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ইটের নিচে পরিমাণ মতো বালু দেওয়া হয়নি। সড়কের অনেক স্থানে মাটি কম দেওয়া হয়েছে। দুই পাশে সবুজ ঘাস লাগানোর কথা ছিল, তাও করা হয়নি। বাঁশ এবং আড়ের প্যালাসেটিংও দুর্বল হয়েছে। এ কারণে সড়কটি নির্মাণের পরই ভেঙে যায়। একই গ্রামের মহিউদ্দিন মানিক জানান, কয়েক দিন যানবাহন চলার পরই সড়কটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ইউসুফ আলী নামে আরেক জন জানান, গুরত্বপূর্ণ এই সড়কের অনেক ইট পাউডার হয়ে গেছে। বর্ষায় এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাতো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও দায়।

তবে সড়কটির ঠিকাদার মইনুল ইসলাম এ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এক বছর সড়কটিকে নানাভাবে সংস্কার করে ভালো রেখেছি আমরা। বন্যায় সড়কের ক্ষতি হওয়ায় আমরা সংস্কার করে দিয়েছি। এখনো সড়কটি ভালোই আছে, যে কেউ সরেজমিনে এসে দেখে যেতে পারেন। সড়কটির কাজ কেউ নিতে চায় না, দরপত্রেও কেউ অংশ নেয়নি। কাজটি নিয়ে আমরা বিপদে পড়েছি, আমাদের অনেক লোকসান হয়েছে।’

তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহ্বান শেষে এই কাজের ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। সড়কটি করার পর বন্যা হয়েছে। বন্যায় সড়কের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা সেটি মেরামত করে দেওয়ার জন্য বলেছি। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, এই সড়কের যে ক্ষতি হয়েছে বা যে অংশ ভেঙেছে, সেটি মেরামত করে না দিলে জামানতের টাকা ছাড় দেওয়া হবে না। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, উন্নয়ন কাজে অনিয়ম হলে মেনে নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিলের টাকা ছাড় দেওয়া হবে না।