সাতক্ষীরায় তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
গত মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সাত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন—আব্দুস সামাদ, গোলাম রসুল, আবদুস সাত্তার, জহুরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মো. মনিরুল ইসলাম। বিচারিক আদালতে আসামিদের মধ্যে আবদুস সাত্তার ও আব্দুস সামাদের চার বছর এবং বাকি পাঁচ আসামির চার বছর করে দণ্ড হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দায়েরকৃত আপিল চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। দুপুরে ঐ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং আসামি পক্ষে এম মাহবুবউদ্দিন খোকন শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে দেয় আদালত। একই সঙ্গে রবিবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন।
প্রসঙ্গত ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা। ঐ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে তখন তা নেওয়া হয়নি। এক যুগ পর ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে নালিশি মামলা করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। আদালত অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ মে বিএনপির তত্কালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
