আবরার হত্যা

বুয়েটের বহিষ্কৃত বিটু ক্লাসে, সহপাঠীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ২২:১০

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম ওরফে বিটু ক্লাসে ফিরেছেন। গত ২২ মে আশিকুল ইসলাম বিটু কেমিকৌশল লেভেল-৩ টার্ম-১-এর একটি কোর্সের অনলাইন ক্লাসে অংশ নেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিটুর বহিষ্কারাদেশ উচ্চ  আদালতে চ্যালেঞ্জ করায় উচ্চ আদালত তার বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেছে, সেটার রেসপেক্টেই আমাদের রেজিস্ট্রার অফিস তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দিয়েছে। বিষয়টিকে আইনিভাবে মোকাবিলা করার কথা জানান বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রায় দুই মাস অচল ছিল বুয়েট। ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশিকুল ইসলাম বিটুসহ ২৬ জনকে আজীবন বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় হওয়া মামলায় আশিকুলকে আসামি করেনি পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আশিকুলের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুয়েট কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করে। আশিকুল ঐ স্থগিতাদেশ নিয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ গত ৪ এপ্রিল তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেয়। এরপর আশিকুল ইসলাম কেমিকৌশল বিভাগের লেভেল-৩ টার্ম-১-এর অন্তত চারটি কোর্সে নিবন্ধন করেন।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, রেজিস্ট্রেশনের জন্য সে যে আবেদন করেছে, সেটা এপ্রুভ হয়নি। আমরা যে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছি, বিটু ওটা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। উচ্চ আদালত তার বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেছে, সেটার রেসপেক্টেই আমাদের রেজিস্ট্রার অফিস তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দিয়েছে। যেহেতু সে আদালত থেকে আইনি অর্ডার নিয়ে এসেছে, সেটা আমাদেরকে আইনিভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেনি বুয়েট। এ বিষয়ে আপিলের প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি, এটা আদালতে আপিল করার প্রচেষ্টা চলছে। আশা করি, দুয়েক দিনের মধ্যেই আপিল করা যাবে।

বিটুর সহপাঠীরা জানান, বিটু একটি অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ক্লাসের সব শিক্ষার্থী তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জুম ও টিমস অ্যাকাউন্টে ‘খুনির সঙ্গে ক্লাসে অংশগ্রহণ নয়’ লেখা প্রোফাইল ছবি দেন। এই প্রতিবাদের মুখে আশিকুল ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বুয়েটের শহিদ মিনার এলাকায় মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, বুয়েট প্রশাসন আগের সেই প্রতিশ্রুতি না রাখলে আগামী ৩০ মে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে তারা বাধ্য হবেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলী আহমেদ মুয়াজ বলেন, বুয়েটের সব সাধারণ শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটুর সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কোনো শর্তেই ইচ্ছুক নই। বুয়েট প্রশাসনের কাছে আমরা দাবি উত্থাপন করেছি। আগামী ২৯ মে এর মধ্যে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি কার্যকর না করলে বুয়েটের সব সাধারণ শিক্ষার্থী ৩০ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে বাধ্য হব। পরে শিক্ষার্থীরা আশিকুল ইসলাম বিটুর কোর্স রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কেউ যাতে আর একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।