ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়া এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছে তাদের ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিতে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন বলে দাবি করেছে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে উপাচার্যের অফিসের সামনে সাংবাদিকদের উপাচার্যের সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের বিষয়টি তুলে ধরেন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, অতিদ্রুত আবাসিক হল খুলে দেওয়া এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার দাবিতে আমরা স্মারকলিপি দিতে যাই। স্যারের কাছে আমরা পাঁচ জন প্রতিনিধি গিয়েছিলাম। উনি আমাদের অপরাধীর মতো দাঁড় করিয়ে কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের মোবাইল এবং অর্থসহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা কেন দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্ন ইব্রাহিম নাফিস (আরেক প্রতিনিধি) ভাই স্যারকে করলে স্যার তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে কথা বলেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন এমনটি জানালে প্রতিবাদকারীদের স্যার মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেছেন। যারা এ বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ করছেন তাদের পরিবারকে হেয় করেও তিনি কথা বলেছেন। তাদের পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন; যা সত্যিই অপমানজনক।
এদিকে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তা হবে কেন। ওদের সঙ্গে খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথা হয়েছে। ছেলেগুলো খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথা বুঝতে পেরেছে। ওরাও খুবই যৌক্তিকভাবে তাদের কথা বলেছে। তাদের কথা আমার ভালোই লাগল। তিনি আরো বলেন, ওদের সঙ্গে কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, স্লোগান বাইরে দিচ্ছিল। তাদের বললাম এগুলো লক্ষ রেখো। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা না। পারিবারিক শিক্ষা হতে পারে না।
এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
