অণুগল্প

একটি কাক

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ১৯:৪৪

 

সকালের আলো গাছগাছালিতে ঝলমল করছে। নরম আলো কার না ভালো লাগে! তাসফিয়া বেলকনিতে এসে দাঁড়িয়েছে। কাঁচারোদে বেলকনির গ্রিল ঝাঁপিয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে তাসফিয়ার দেহ। একটি কাক আকস্মিক উড়ে এসে বসে গ্রিলের ওপর। ইস কী ময়লা! কা কা ডাক জুড়ে দিয়েছে কাকটি।

বেলকনিতে রয়েছে কোমর সমান দেয়াল। দেয়ালের ওপর দিয়ে একটি কালো সরু লাইন, এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত বিস্তৃত লাইনটি কালো পিঁপড়ের। একটি মরা টিকটিকির দেহখণ্ড নিপুণ ঢঙে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

কাকটি আচমকা নড়ে ওঠে। দেয়ালের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়া টিকটিকির দেহখণ্ডটি ছোঁ মেরে পাখা ঝাপটিয়ে উড়াল দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পচা ময়লার ধুলো তাসফিয়ার মুখে এসে পড়ে। চিত্কার দেয় তাসফিয়া। কেউ তা শুনে ভাবতে পারে কোনো বিপদ ঘটেছে। মুহূর্তে ছুটে আসে বাথরুমে, মুখ ধোয়। প্রথমে পানি দিয়ে ধোয় তারপর সাবান নেয়। বারবার মুখে ঘষে। চোখের পাতার ওপর থেকে ওড়না দিয়ে সাবানের ফেনা মোছে। পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায়। লুকিং গ­াসে ফেনা মুখে নিজেকে দেখে। ধুতে গিয়েও নিজেকে থামায়। ভাবে সাবান আরেকটু থাকুক। বেশিক্ষণ না থাকলে জীবাণু মরবে না। প্রায় বিশ মিনিট সাবান মুখে বাথরুমে দাঁড়িয়ে থেকে মুখ ধোয়। লুকিং গ­াসের পাশে ঝোলানো তোয়ালে। তোয়ালেটি হাতে নিয়ে মুখের পানি মুছে নেয়। তারপর অনেকক্ষণ তোয়ালে মুখে চেপে রাখে।

ওহ! শান্তি!! জীবাণু তাড়িয়ে শান্ত হয় তাসফিয়া। ফিরে আসে বাথরুম থেকে। দরজার চৌকাঠ পেরোনোর পর মনে হয়, জীবাণুগুলো লেগে আছে এখনো। বাথরুমে ফিরে যায়, আবারও সাবান মাখে, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। পানি ঢালে মুখে। আবার। বারবার।

তাসফিয়া! এই তাসফিয়া!! কোথায় তুমি!!! ডাকতে ডাকতে মা রুমে ঢোকেন।

তাসফিয়া রুমে নেই। বাথরুমের দরজা খোলা।

ডাকতে ডাকতে মা বাথরুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়ান, দ্রুত এসো তাসফিয়া। সবাই ডাইনিং টেবিলে বসা। তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

তাসফিয়া মুখ ধোয়া বন্ধ করে মার দিকে তাকায়। বলে, এত তাড়াতাড়ি নাস্তা কেন মা? ক’টা বাজে?

বলিস কী? নটার ঘর পেরিয়ে যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটা। তুই বলছিস এত তাড়াতাড়ি! মা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে। সব কাজে তাসফিয়ার একটু দেরি হয়, মা তা জানেন। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন, তাড়াতাড়ি করো।

মা তাড়া দিয়ে পা বাড়ালে থমকে যায় আবারও। জীবাণু লেগে আছে! নাহ। অনেকক্ষণ ধুয়েছে সে। জীবাণু থাকার কথা নয়। তবু থেকে থেকে চিন্তা জেগে উঠছে। ঠেকাতে চেষ্টা করছে তাসফিয়া, পারছে না। তবু এবার নিজেকে দৃঢ় করে। আর মাত্র একবার ধোবে। ব্যস।

বাইরে কচি রোদ আর নেই। দিনের আলো বেশ কড়া হয়ে উঠেছে। পিঁপড়ের দল লাইন ধরে এগিয়ে চলেছে। কাকটি নেই। কেবল তাসফিয়ার সময় বয়ে গেছে। টেরই পায়নি সে।