করোনার কারণে গত বছরের ঈদের মতো এবারও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি নতুন কোনও চলচ্চিত্র। তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আই থিয়েটার ঈদে মুক্তি পেয়েছে চিত্রনায়ক নিরব হোসেনের ‘কসাই’। এই ছবিসহ নানান বিষয়ে ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে খোলোমেলা কথা বলেছেন নিরব।
কসাই ছবির অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে নিরব বলেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেশের প্রথম কোন ছবি ঈদে রিলিজ হলো ‘কসাই’। ছবিটি মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে অনেক ভালো সারা পাওয়া গেছে। যা সত্যিই খুব আনন্দের বিষয়। পরিচালক মামুন ভাই গল্পটি শোনানোর পর খানিকটা চিন্তা করেই এতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, দিনে দিনে কিছু বিষয় পরিবর্তন হচ্ছে। এখন মানুষ ওটিটির দিকে বেশি ঝুঁকছে। এছাড়া দর্শক এখন বাস্তব এবং গল্প নির্ভর ছবি বেশি চায়। সেই জায়গা থেকে ‘কসাই’ ছবিতে কাজ করেছি। এটা আমার জন্য বিরাট এ অভিজ্ঞতা। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো- আমরা সবাই মিলে অনেক পরিশ্রম করে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। দর্শকদের কাছে ভালো রিভিউ পাচ্ছি। এটা অনেক আনন্দের বিষয়।’
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপটে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে নিরব বলেন, ‘মানুষকে দেখানের জন্য পরিচালক তার বিষয় ফুটিয়ে তোলেন। তখন তার কালে এটা একটা সন্তানের মতো। সেই জায়গা বা আমাদের ইতিহাস ১৯৫৭ থেকে আমরা যদি দেখি চলচ্চিত্র মানে কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখা। সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখবো এটার বিকল্প কিন্তু কিছু নাই। টিকিট কেটে যখন আমরা হলে ঢুকি সেখানে কিন্তু অন্যরকম একটা পরিবেশ। সেই সময় আমাদের মনটা সেই পর্দায় থাকে। আর ওটিটি হলো ছোট একটা জায়গায় বসে মোবাইলে দেখছি এবং আমার আশেপাশে মানুষ কথা বলছে। এখানকার অনুভূতিটা অন্যরকম। বিগত কয়েকবছর হলো ওটিটি একটি মাধ্যম হয়েছে। এই মাধ্যমেই হয়তো আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম চলতে। এটার সঙ্গেই আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানি আসছে আবার এতে অনেকেই ইনভেস্ট করছে। এছাড়া নতুন নতুন অ্যাপ আসছে যেখানে ছবিগুলো মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। যা আমরা আগে যা চিন্তা করিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আমাদের মনে নিতে হচ্ছে।’
কসাই-২ সিকুয়েল আসবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে নিরব বলেন, “মানুষের ভালোবাসার জায়গা থেকেই ‘কসাই-২’ ছবির প্লান চলছে। পরিচালক অনন্য মামুন স্ক্রিপ্টের কাজ করছেন। এর মধ্যে আমরা ‘অমানুষ’ ছবির কাজে হাত দিয়েছি। এই ছবি শেষ হলেই ‘কসাই-২’ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো।”

সৈকত নাসিরের ‘ক্যাসিনো’, অনন্য মামুনের ‘অমানুষ’, আসিফ ইকবাল নাসিরের ‘চোখ’ ও ‘ক্যাশ’, অভিনেত্রী রোজিনার ‘ফিরে দেখা’, বন্ধন বিশ্বাসের ‘ছায়াবৃক্ষ’, দায়েল রহমানের ‘তিতুমীর’ ছবিতে অভিনয় করছেন নিরব। মুক্তির মিছিলে থাকা এই ছবিগুলোর বিষয়ে নিরব বলেন, ‘ভালো লাগবে তখনই যখন দর্শকরা এই চলচ্চিত্রগুলো দেখবে এবং তাদের যেটা ভালো লাগবে। সত্যি কথা বলতে- এই সময়ে আমরা খারাপ একটা সময়ের মধ্যে পার হচ্ছি। করোনার কারণে হয় আমাদের কাজ হেরফের হচ্ছে। তারপরও কাজগুলো করছি দর্শক ও চলচ্চিত্রের জন্য। তবে আমার উপর আস্থা রাখার জন্য পরিচালকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

২০০৯ সালে শাহীন-সুমন পরিচালিত ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’ ছবি দিয়ে রূপালি পর্দা পথচলা শুরু হয় নিরবের। একদশক পর এসে নিজেকে কীভাবে দেখেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়- সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ২০০৯ সালে আমি যখন ছবি শুরু করি তার কিছুদিন আগে আমরা অ্যানালক থেকে ডিজিটালে এসেছি। করোনার কারণে আবার এখন অন্যরকম এক পরিবেশে কাজ চলছে। সব মিলিয়ে এই সময়ের মধ্যে যে কাজগুলো করেছি তার মধ্যে অনেক অর্জন রয়েছে। করোনা কাটিয়ে উঠতে পারলে আরও ভালো কাজ উপহার দিতে পারবো।’
‘কসাই’ ছবিসহ আরও কিছু ছবির বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আড্ডা দিতে ইত্তেফাক অনলাইনের নিয়মিত আয়োজন ‘টুনাইট শো’-এ হাজির হয়েছিলেন এই অভিনেতা। বৃহস্পতিবার রাত ৭টায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন ইত্তেফাক অনলাইন ইনচার্জ জনি হক।

ছোটবেলায় চিত্রনায়িকা রোজিনার অভিনয় দেখেছেন। বড় হয়ে তার পরিচালিত ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নিরব বলেন, ‘রোজিনা আপার সঙ্গে কাজ করা আমার বড় একটি অর্জন। তার পরিচালনায় কাজ করা সৌভাগ্যের বিষয়। সত্যি কথা বলতে উনি খুবই ভালো মানুষ। শুটিং শুরুর আগে তিনি আমাকে গল্পটা অনেকবার বলেছেন। অনেক মজা করে প্রত্যেকটি দৃশ্য একটু একটু করে বলতেন। তখন মনে হতো গল্পটা আমি চোখে দেখছি। আমাদের দুইজনের জেলা রাজবাড়ি হওয়ায় আমরা অনেক মজা করে শুটিং করেছি। আমার জীবনের এই প্রথম আমার নিজের জেলাতে আমি শুটিং করেছি।’
ইত্তেফাক/বিএএফ
