মো. মাকসুদ উল্যাহ
সব রোগীর রোগ একরকম নয়। কারো ৩০ টাকা দামের একটি ক্রিম দিয়েই চিকিত্সা হয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে শত চেষ্টা করেও ওষুধের সংখ্যা ২০টির কমে আনা যায় না এবং সেগুলো বছরের পর বছর চালিয়ে নিতে হয়। কেননা, তার রোগই আছে অন্তত ৮টি। এসব ক্ষেত্রে রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সককে অনেক স্নায়ুচাপ ভোগ করতে হয় এবং অন্য রোগীদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় হয়। উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে অনেক সময় চার-পাঁচটি ওষুধ দিতে হয় শুধু উচ্চ রক্তচাপের জন্য। যারা একবার স্ট্রোক করেছে বা যাদের একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, যাদের ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ আছে—তারা এবং আরো বিভিন্ন রোগের প্রত্যেকটার জন্য গড়ে ৪-৫টি ওষুধ গ্রহণ করতে হয় প্রতিদিন এবং এসব ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়।
বিভিন্ন ব্যস্ত ফার্মেসির সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে যে কেউই ২০টি ব্যবস্থাপত্রের মধ্যে অন্তত ২-৩টিতে ১৭-১৮টি বা তার চেয়েও বেশি ওষুধ দেখতে পাবেন। তাই বলে কোনো ধরনের যাচাই না করে এরকম ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলে ফেসবুকে তুলে ধরে হাসি-ঠাট্টা করা কোনো কাজের কথা নয়। রোগীর জন্য এতগুলো ওষুধ দরকার কি না, সেটা কেবল চিকিত্সকই বলতে পারবেন। একবার ১৮/২০টি ওষুধ সংবলিত একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের একটি ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে টিটকারি শুরু করেন এক ব্যক্তি। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘রোগী কি ভাত খাবে, নাকি ওষুধ খাবে?’ সঙ্গে সঙ্গেই অন্য অনেকেই সেটি শেয়ার করতে শুরু করেন। ২৪ ঘণ্টায় সেটি দশ হাজার শেয়ার হয়। অনেককে দেখেলাম বিশ্রী ভাষায় সেই ডাক্তারের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করতে! ভুয়া/অযোগ্য ডাক্তার, তাই অনেকগুলো ওষুধ লিখেছে যেন যে কোনো একটিতে কাজ হয়। ডাক্তারের সার্টিফিকেট যাচাই করারও প্রশ্ন তোলা হলো! ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তারের মোবাইল নাম্বার ছিল। অনেকে তাঁকে ফোন করে তাঁকে এবং তাঁর বাবা-মাকে অকথ্য গালিগালাজ করেছেন! অথচ প্রায়ই গণমাধ্যমে অনেক ভুয়া ডাক্তারের খবর প্রকাশিত হয়, কিন্তু এই লোকেরা তখন ‘টুঁ’ শব্দটিও করেন না! যাই হোক, আমি নিজে তাঁকে ফেসবুকে ট্যাগ করে সংশ্লিষ্ট পোস্টদাতা লোকটির বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। পরের দিন দেখলাম পোস্টটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পরিশেষে বলব—অজানা বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশা করার আগে, যাঁরা সে বিষয়ে জানেন, তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।
চিকিত্সক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
