গেজেট না হওয়ায় বিপাকে স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১৮২ চিকিত্সক

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ২১:২৫

রাবেয়া বেবী

চাকরির সময়কাল সংরক্ষণ ও বেতন সংরক্ষণপূর্বক গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় চার মাস কাজ করেও বেতন পাচ্ছেন না ৩৮তম বিসিএস সম্পূর্ণ করে স্বাস্থ্য ক্যাডারের কাজে যোগ দেওয়া ১৮২ চিকিত্সক। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে যথাসময় তাদের তথ্যাদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোভিড নিয়ে অনেক রকম ব্যস্ততা থাকায় এত সময় লাগছে।

 ১৮২ জন স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিত্সক প্রথমে ৩৯তম বিসিএস সম্পূর্ণ করে ৮ ডিসেন্বর ২০১৯-এ কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন। তখনো এই চিকিত্সকদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) বাকি ছিল। সে সময় ৩৮তম বিসিএস-এর ভাইভা হলে তারা ‘নো অব্লিকেশন সার্টিফিকেট’ নিয়ে ৩৮তম বিসিএস-এর ভাইভাতে অংশ নেন। ৩৮তম বিসিএস-এর ফল প্রকাশ হলে দেখা যায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিত্সকদের মধ্যে সিংহভাগই ৩৯তম বিসিএস-এ নিয়োগপ্রাপ্ত। চাকরির জ্যেষ্ঠতা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে তারা ৩৮তম বিসিএস-এর ক্যাডার হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ নতুনভাবে নিয়োগ পান এবং কাজে যোগ দেন।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক চিকিত্সক জানান, কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার পর চাকরি সময়কাল সংরক্ষণ ও বেতন সংরক্ষণ পূর্বক ৩৯তম বিসিএস থেকে অব্যাহতি দেন তারা। কিন্তু তারপরও এ সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় চার মাস কাজ করেও বেতন পাননি। অন্য এক চিকিত্সক বলেন, এরই মধ্যে চলে গেল একটি ঈদ, সেখানে ছিল তাদের বোনাস পাওয়ার কথা। তাও পাননি। আবার সামনে আর একটি ঈদ আসছে। আর একজন ভুক্তভোগী বলেন, উপরন্তু জুলাই মাসে তাদের ইনক্রিমেন্ট হওয়ার কথা। তাই এরই মধ্যে গেজেট না হলে এই ইনক্রিমেন্টও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন তারা। তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করছেন। তারা মনে করেন মধ্যস্থতাকারীদের দীর্ঘসূত্রতার শিকার হচ্ছেন তারা।

জানা যায়, ৩৯তম বিসিএস পাশ করে কাজে যোগ দিয়ে পুনরায় ৩৮তম বিসিএস পাশ করে নিয়োগ পাওয়ার সময় কেউ কেউ প্রশাসন থেকে শিক্ষা ক্যাডারে আবার কেউ কেউ শিক্ষা থেকে অন্য ক্যাডারে যোগ দেন। অর্থাত্ বিষয় পরিবর্তন করে নিয়োগ পান। তারা যোগ দেওয়ার মাসেই বেতন পান। অর্থাত্ বেতন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন পরিচালক ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম ইত্তেফাককে বলেন, তাদের তথ্যাদি মন্ত্রণালয়ে যথাসময়ে পাঠানো হয়েছে। কোভিড নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক রকম ব্যস্ততা থাকায় এত সময় লাগছে। তিনি বিষয়টি শিগিগরই সমাধান করার আশ্বাস দেন।