ক্যাচ মিস, বোলিংয়ে ছন্দপতন

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ২১:২৭

জান-ই-আলম

সিরিজের দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার তারুণ্যনির্ভর দলটা পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশের কাছে। ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করলেও বাংলাদেশের বোলাররা ছিলেন দুর্বার। দুই ম্যাচে ২২৪ ও ১৪১ রানের বেশি যেতে দেননি মিরাজ-মুস্তাফিজরা। গতকাল টসে হেরে আগে বোলিংয়ে নামতেই বদলে গেল দৃশ্যপট। বোলিংয়ের ধার যেন উধাও!

স্পিনার ত্রয়ী (সাকিব, মিরাজ, মোসাদ্দেক) ২৩ ওভার বোলিং করে উইকেট শূন্য। শুধু তাসকিন আহমেদই কিছুটা কাঁপিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের। বোলিংয়ে ছন্দপতনের সঙ্গে গতকাল ক্যাচ মিসের পুরনো রোগ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। শ্রীলঙ্কার রানের মূল কারিগর কুশল পেরেরার তিনটি ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। তিনবার জীবন পেয়ে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করেছেন পেরেরা। ৬৬, ৭৯ রানে তার ক্যাচ ফেলেছেন নাঈম শেখ ও আফিফ। দুইবারই বোলার ছিলেন সাকিব। পরে ৯৯ রানেও পেরেরাকে জীবন দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

তবে ইনিংসের চিত্র এমন নাও হতে পারত। কৌশলের কিছুটা বদল এনে ভুগেছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচগুলোতে লঙ্কান দুই বাঁহাতি ওপেনারের বিরুদ্ধে বোলিং ওপেন করেছিলেন অফস্পিনার। শুরুতেই চাপে পড়েছিল তারা। গতকাল নতুন বলে তরুণ শরীফুলের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক তামিম। প্রথম ওভারেই তার আলগা বলে দুটি চারে ৯ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় সফরকারীরা। পরের ওভারে এসে মিরাজও আর চেপে             ধরতে পারেননি লঙ্কানদের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা শরীফুলকে দিয়ে ইনিংসের শেষ ওভারও করিয়েছেন তামিম। বলা বাহুল্য, সেই ওভারেও ১৮ রান দিয়েছেন বাঁহাতি এ পেসার।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্পিনাররা এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩০ ওভার করে উইকেটশূন্য ছিলেন। সেটি ২০১১ সালে মিরপুরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে।

বোলারদের দুর্দিনে সফল ছিলেন তাসকিন। নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসে ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনি। দানুশকা গুণাথিলাকা প্লেড অন হয়ে বোল্ড হন ৩৯ রান করে। ওভারের শেষ বলে পাথুম নিশাঙ্কা (০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে লঙ্কান অধিনায়ক পেরেরার ৬৯ রানের জুটিও ভাঙেন তাসকিন। কুশল মেন্ডিসের (২২) তোলা ক্যাচ নেন তামিম। ইনিংসের ৪৯তম ভানিদু হাসারাঙ্গাকে (১৮) ফেরান ডানহাতি এ পেসার। বাউন্ডারিতে দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন মিরাজ। ৪৬ রানে চার উইকেট নেন তাসকিন। এদিন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫০তম উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।

হাফ সেঞ্চুরির পর কয়েকটি সুযোগ                  দেওয়া পেরেরাকে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়েছেন শরীফুল। ৪০তম ওভারে মাহমুদউল্লাহর            হাতে ক্যাচ দেন লঙ্কান অধিনায়ক। ১২২ বলে ১২০ রানের (১১ চার, ১ ছয়) ইনিংস খেলেছেন তিনি।

মুস্তাফিজ-মিরাজরা উইকেটশূন্য, বোলিংয়ে বাংলাদেশের দিনটা সত্যিই ছিল বিবর্ণ।