মোদির সঙ্গে আলাদা কথা বললেন মমতা

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ০৯:৪৭

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুন্ডায় বৈঠক করেন মোদি। কিন্তু সেই বৈঠকে যোগ দেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে ঐ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে দেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিনি ২০ হাজার কোটি রুপির প্যাকেজ চেয়েছেন।

পরে মমতা বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ওড়িশা লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের দিঘায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে আমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যাওয়ার কথা ছিল। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠকে যোগ দিতে পারিনি। তবে কলাইকুন্ডায় আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। পাব কি না জানি না, তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তাকে জানিয়ে উপযুক্ত সহায়তা চেয়েছি। দিঘা এবং সুন্দরবনে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই দিঘা এবং সুন্দরবনের উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি রুপির দুটি পৃথক প্রজেক্ট জমা দিয়েছি। মোট ২০ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প। মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বৈঠকে ডেকেছিলেন। তাই তার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। তাকে জানিয়েছি যে, দিঘায় যেতে হবে তাই ঐ বৈঠকে থাকতে পারছি না।

এদিকে সূত্রের খবর, মোদির সঙ্গে মমতার যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, সেখানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি। একারণে মমতা ওই বৈঠকে যোগ দিতে চান নি। ‌‌এ ধরণের প্রশাসনিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং এ সংক্রান্ত সরকারি দপ্তরের অফিসাররাই থাকতে পারেন।

এদিকে হেলিকপ্টারযোগে গতকাল শুক্রবার ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড় ‘?ইয়াস’-এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি দেখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। পরে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকা আকাশপথে ঘুরে দেখে কলাইকুন্ডায় যান তিনি।

সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটি পৃথক ঘরে ইয়াস নিয়ে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্যের ইয়াস পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। মিনিট দশেক পশ্চিমবঙ্গের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মোদি ও মমতার কথা হয়।

কলাইকুন্ডায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা পর্যালোচনা বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, বিজেপি বিধায়ক এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রমুখ। পরে জানানো হয়, ওড়িশার জন্য ৫০০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের জন্য ৫০০ কোটি রুপি দেওয়া হবে। তবে তা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল দেখা করার পর।