গাজায় ইসরাইলের অপরাধের তদন্ত করবে জাতিসংঘ

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ২১:৫৫

গাজাকে ঘিরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের হামাসের মধ্যে ১১ দিনের যে সংঘাত হয়েছে তার তদন্ত করতে রাজি হয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ। ইসরাইল ও হামাসের সংঘাত তদন্তের জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির আনা একটি প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হয়। এতেই তদন্তের পক্ষ সমর্থন করে বেশির ভাগ সদস্য। ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার পরিষদের ২৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে এবং ৯টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়। আর ১৪টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

প্রস্তাবে ইসরাইল-হামাস সংঘাত তদন্তে একটি স্থায়ী তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। যার কাজ হবে লড়াই চলার ঐ সময়ে ইসরাইল, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেওয়া। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে ব্যাপক রক্তপাত হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়। গত ২১ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের অবসান হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান মিশেল ব্যাচেলে এর আগে গাজায় চালানো ইসরাইলের হামলা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ এক অধিবেশনে ভাষণদানকালে ব্যাচেলে বলেন, ‘গাজায় ক্ষেপণাস্ত্র, গোলা ছুড়ে ইসরাইলের হামলায় বেসামরিক নাগরিকরা হতাহত হয়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’ তবে ইসরাইলের দাবি, তাদের হামলায় ধ্বংস হওয়া বেশির ভাগ ভবনেই সশস্ত্র ফিলিস্তিনি দল আশ্রয় নিয়ে ছিল এবং সামরিক তত্পরতা চালিয়ে আসছিল, কিন্তু এর কোনো প্রমাণ আমাদের চোখে পড়েনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকের লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ইসরাইল-বিরোধী মনোভাবের আরেকটি দৃষ্টান্ত।’ তবে হামাসের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র এই দলটির কর্মকাণ্ড ‘বৈধ প্রতিরোধ’। ইসরাইলকে যত দ্রুত সম্ভব শাস্তি দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে হামাস।—বিবিসি ও রয়টার্স।