রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আরাফাত ইয়াসিন (১৮) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। কদমতলীর শনিরআখড়ায় এই নৃশংস খুনের ঘটনায় পুলিশ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে বঙ্গবাজার মার্কেটে ফুটপাতে বসাকে কেন্দ্র করে আখের রস বিক্রেতার হামলায় সেলিম চৌধুরী (৫০) নামে এক তরমুজ বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় হামলাকারী সুলতানকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দীন মীর বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে শনিরআখড়া আরএস শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাতে শেরেবাংলা হূদেরাগ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হয়। পরে গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, পরিবারের সঙ্গে কদমতলীর পাটেরবাগ আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় থাকতেন আরাফাত। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর কুতুবপুর এলাকায়। ঘটনার রাতে ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে কর্মস্থল আয়েশা মোশারফ মার্কেট থেকে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় শনিরআখড়ার আরএস শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ১৫-২০ জনের একটি দল তাকে আটকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের ভাই আব্দুল হাই সোহেল জানান, রমজান মাসে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের দলনেতা প্রিন্সের সঙ্গে থাকা এক কিশোর ধূমপান করছিল। তা দেখে ঐ ছেলেকে চড় মারেন আরাফাত। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়। চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিলেন আরাফাত।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আরাফাতকে ঘিরে ধরেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাতের দৃশ্য ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। এতে জড়িতদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে আটক ছয় জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে।
ফল বিক্রেতা খুন : গুলিস্তানের বঙ্গবাজারের কাছে তুচ্ছ ঘটনায় বাগিবতণ্ডার জের ধরে মো. সেলিম নামে এক তরমুজ বিক্রেতাকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই জনের বাগিবতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুলতান ক্ষিপ্ত হয়ে তার আখমাড়াই মেশিনের লোহার হাতল দিয়ে সেলিমের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সক। ঘটনাস্থলের খুব কাছেই পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই সুলতানকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেলিমের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার খুবলী গ্রামে। তিনি বঙ্গবাজারের পাশে পুরোনো রেলওয়ে কলোনি বস্তিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন।
