বিবস্ত্র করে তরুণীকে নির্যাতন

ভারতে গুলিবিদ্ধ টিকটক বাবুসহ অভিযুক্ত দুই জন ঢাকায় মামলা

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ২২:১২

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশের এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় দুই নারীসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় ভারতে গ্রেফতার বাংলাদেশি যুবক টিকটক হূদয় বাবুসহ দুই জন পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভারতীয় পুলিশ বলছে, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। এদিকে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় বৃহস্পতিবার রাতে মানব পাচারকারী আইন ও পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি জানিয়েছেন, তার মেয়ে গত এক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে।ন্যাশনাল হেরাল্ড ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে টিকটক হূদয় বাবু ও সাগর গুলিবিদ্ধ হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে টিকটক হূদয় বাবু, সাগর, মোহাম্মদ বাবা শেখ ও হাকিল নামে চার তরুণ এবং ভুক্তভোগী দুই নারীকে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেফতার সবাই অবৈধভাবে ভারতে গেছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে তরুণীকে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে, তাকেও এই চক্রটি অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বেঙ্গালুরু পুলিশ বলছে, গ্রেফতারের পর ঐ চার যুবককে কে. চান্নাসান্দ্রা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের ধারণা, সেখানেই ঐ তরুণীকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেই পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে হূদয় ও সাগর। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নির্যাতিতা মেয়েটিকে পাওয়া গেছে। তাকে বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

‘শিক্ষা দিতে’ তরুণীকে পৈশাচিক নির্যাতন

‘দ্য হিন্দু’র খবরে  বলা হয়, অভিযুক্তদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে স্থানীয় পুলিশ বলছে, মেয়েটিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ উপায়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর তাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। সেখান থেকে মেয়েটি কৌশলে পালিয়ে যান। কিন্তু এই চক্রটি তাকে আবার খুঁজে বের করে। পালিয়ে যাওয়ার শাস্তি হিসেবে তাকে ‘শিক্ষা দিতে’ তার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। সেখানেই শেষ নয়, সেই নির্যাতনের ঘটনাটি ভিডিও করে তারা ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

মামলা দায়ের

ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানব পাচারকারী আইন ও পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টে একটি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’

ডিএমপির সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোল প্রোটোকলের আওতায় ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। এ ঘটনায় দুই দেশেই মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ ডিএমডি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের দেশে আনতে পারলে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করব।’

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরে ঐ তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভাইরাল ভিডিওটি দুই দেশের পুলিশের নজরে এলে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।