সুইসাইড নোট লেখা এক তরুণী পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, ‘আল্লাহ আপনাদেরকে ফেরেশতা করে আমার কাছে পাঠিয়েছেন।’ পুলিশের চেষ্টায় আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এবং প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর নিজ উপলব্ধি থেকে তিনি এ কথা লিখেছেন বলে গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো ঃ সোহেল রানা।
সোহেল রানা জানান, মেয়েটি গত রাতে সুইসাইড নোট লিখেছিলেন। পরে পুলিশের বার্তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। মেয়েটি লিখেছেন, ‘গত রাতেই সুইসাইড নোট লিখেছিলাম, হয়তো রাতেই কিছু করে ফেলতাম। আপনাদের মেসেজ পেয়ে ভরসা পেয়েছি।’ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে এসব কথা লিখেছেন এই তরুণী।
সুইসাইড নোটে তরুনী লিখেছিলেন, ‘তার সঙ্গে এক যুবকের বহুদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কোনো মূল্যেই ছেলেটি তাকে বিয়ে করবে না। ছেলেটির পরিবারও মেনে নেবে না। প্রভাবশালী হওয়ায় ছেলের পরিবার কাউকে পাত্তা দিচ্ছে না। স্থানীয় সব উপায়ের শরণাপন্ন হয়েও কোনো সমাধান বা বিচার পাননি। হতাশ হয়ে পড়েন। তাই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময়েই এক পরিচিত ব্যক্তির পরামর্শে পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংকে লেখেন তিনি। জানান, তিনি বাঁচতে চান। চান সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে।
মিডিয়া উইং প্রাথমিকভাবে তার পাশে থাকার আশ্বাস দেয়। তাকে ইতিবাচক চিন্তা করতে উত্সাহ দেয়। নানাভাবে কাউন্সেলিং করে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার ওসি মো. রওশন কবিরকে নির্দেশনা দেয় বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে উপযুক্ত আইনি সহায়তা দিতে। সার্কেল এএসপি মো. সুমন রেজাকে পরামর্শ দেয় বিষয়টি তদারকি করতে।
নাগেশ্বরী থানার ওসির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সার্কেল এএসপির তত্ত্বাবাবধানে বিষয়টির দ্রুত সমাধানের পথ সুগম হয়। এলাকার চেয়ারম্যানসহ অন্য জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে ও উপস্থিতিতে একটি উত্সবমুখর পরিবেশে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন ওই তরুণী ও কলেজ শিক্ষক।
