শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবর্দী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় গারো পাহাড়ের সীমান্তবর্তী মানুষগুলো দীর্ঘদিন যাবত্ বন্যহাতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। এই লড়াইয়ে প্রাণ গেছে অনেকের। লড়াইয়ে কখনো কখনো বন্যহাতি হেরে গেলেও কেড়ে নিয়েছে শিশুসহ অনেক মানুষের তাজা প্রাণ। তাই সন্ধ্যা নামতেই ওদের জীবনে নেমে আসে বিভীষিকা। হাতি আতঙ্কে কাটে নির্ঘুম রাত।
নালিতাবাড়ী শহর থেকে প্রায় ১৭ কি.মি দূরে ফেকামারি গ্রাম। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সেখানে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাহাড় থেকে ৪০/৪৫টি বন্যহাতি নেমে এসে তাদের গ্রামে তাণ্ডব চালায়। এ সময় গাছের কাঁঠাল, খেতের পাকা ধান খেয়ে ফেলছিল হাতিগুলো, ধানসহ বিভিন্ন ফসল পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে ফেলছিল। ফসল বাঁচাতে গেলে বন্যহাতি দল বেঁধে গ্রামবাসীর ওপর আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে অপূর্ব চাম্বুগং (৪৮) নামে একজনকে হাতি শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে আছরে ও পায়ে পিষে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলে। নিহত অপূর্ব চাম্বুগং পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের সুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফেকামারি গ্রামেই অনেক দিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন।
ফেকামারি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মানকি ও যুশেক সাংমা জানান, ২০০৭ সালে এক বর্ষার রাতে মামারা (হাতিকে ওরা মামা বলে) হামলা করে ইলিশ চিরানের ছেলে ফারুক ডিও ও মেয়ে বিপুল ডিওকে মেরে ফেলে এবং ২০১০ সালে হামলা চালিয়ে গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীনকে (৫০) মেরে ফেলে এবং ২৫/৩০টি ঘরবাড়ি ভেঙে আসবাবপত্র টেলিভিশনসহ সব তছনছ করে ফেলে। আরেক বাসিন্দা আশালতা নেংমিনজা (৩৮) বলেন, ‘আমার ১৫ কাঠা জমির পাকা বোরো ধান খাইয়া সাবাড় করে দিছে।’ তারা আরো বলেন, ‘আগে মামারা আসলে ঢোল-ডগর বাজাইলে, আলো জ্বালাইলে এবং জুরে শব্দ করলে চইলা যাইতো। এহন আর ডরায় না। ওরা আরো আমাগর ওপর আক্রমণ করে।’
জানা গেছে, খাদ্যের জন্য দিনের বেলাও লোকালয়ে চলে আসে হাতির পাল। বন্যহাতির আক্রমণে গ্রামের লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হাতি তাড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান গ্রামবাসী। হাতি তাড়াতে ফ্লগ লাইটের ব্যবস্থা করার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভিন বলেন, হাতির আক্রমণে মানুষ নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেছি। সত্কারের জন্য ৫ হাজার টাকা সহযোগিতা দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীকালে কোনো সাহায্য পেলে দেওয়া হবে। থানার ওসি বছির আহমদ বাদল জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে সত্কারের জন্য লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
