প্রতিদিন ২২০০ টন বর্জ্য পড়ছে কর্ণফুলী নদীতে

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ০২:২৭

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৬টি খাল ও নালা দিয়ে প্রতিদিন ২ হাজার ২০০ টন বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, নগরীর ৫২টি খাল ও নালার মুখ রয়েছে কর্ণফুলী নদী অভিমুখে। এর অনেকগুলো দখল ও দূষণে ভরাট হয়ে ৩৬টির মোটামুটি অস্তিত্ব রয়েছে।

মানব ও কঠিন বর্জ্য কোনো প্রকার পরিশোধন ছাড়াই কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এতে করে কর্ণফুলী নদীতে কঠিন বর্জ্য হিসেবে পলিথিন, বোতল, কাপড়সহ অন্যান্য পদার্থের একটি শক্ত স্তর হচ্ছে। একইভাবে অপরিশোধিত তরল বর্জ্যের কারণে নদীতে দূষণের মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, কর্ণফুলী নদীতে প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার প্রভাব না থাকলে বহু আগেই এটি বুড়িগঙ্গার ন্যায় দূষণে পতিত হতো।

চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল পুনঃখনন ও সংস্কার মূলত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) করে থাকে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত খাল, নালা খনন, সংস্কার এবং দেওয়াল নির্মাণকাজ চলছে। নগরীর বাসাবাড়ির কঠিন বর্জ্য অপসারণসহ এগুলো ডাম্পিং সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগ করে থাকে। নগরবাসীর পানির সমস্যা নিরসনে সুপেয় পানি সরবরাহের দায়িত্ব চট্টগ্রাম ওয়াসার। একইভাবে মানব বর্জ্য পরিশোধনের দায়িত্ব চট্টগ্রাম ওয়াসার। ওয়াসা নগরীতে পানি সরবরাহ করলেও সুয়ারেজ কার্যক্রম নেই। যদিও সম্প্রতি সুয়ারেজ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনকার নগরবাসীর মনুষ্য বর্জ্যের শেষ ঠিকানা হচ্ছে নালা-নর্দমা-খালের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদী।

No description available.

’৯০-এর দশকের প্রথম দিকে নগরীর আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের নিচ দিয়ে বিশাল আকারের বক্স কালভার্ট দেয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত স্থাপন করা হয়। ঐ বক্স কালভার্টের মুখ পড়েছে বন্দরের ১ নম্বর জেটি বরাবর কর্ণফুলী নদীতে। ফলে নগরীর বিশাল অংশের সব ধরনের ময়লা আবর্জনা ঐ কালভার্ট দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। সে সময় কালভার্ট নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কালভার্টের নদী মুখে সিলটেপ স্থাপন করা হবে যাতে প্রতিনিয়ত ময়লা আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে তা করা হয়নি। ফলে প্রায় ৩০ বছর ধরে সব ধরনের বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে।

No description available.

একইভাবে চাক্তাই খালসহ বেশ কয়েকটি বড় খাল-নালা দিয়ে বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। তবে প্রতিদিন জোয়ার ভাটার কারণে কর্ণফুলী নদীতে পড়া ঐ সব ময়লা আবর্জনার বিরাট অংশ সমুদ্রে চলে যাচ্ছে। এরপরও একটা অংশ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে প্রতিদিন জমা হচ্ছে যার বিরাট অংশ পলিথিন, পেট বোতল, কাপড়সহ অন্যান্য কঠিন বর্জ্য। এর ফলে বর্তমানে বুয়েটের তথ্যানুযায়ী কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে উজানে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় ২ মিটার থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত কঠিন বর্জ্যের স্তর পড়েছে। এর ফলে ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ঐ এলাকায় দুই দফায় বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।

No description available.

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কর্ণফুলী নদীর নাব্য রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রধান ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে নগরীর সব খাল, নালা-নর্দমার মুখে পলিথিনসহ কঠিন বর্জ্য আটকানোর জন্য নেট স্থাপন চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব উদ্যোগে করার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নেট স্থাপনের নির্দেশনা পেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


ইত্তেফাক/ইউবি