সাবেক এমপির নামে ৮ কোটি টাকা দুর্নীতির চিঠি নিয়ে তোলপাড়

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ১৬:৪৭

গাজীপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রায় পৌনে ৮ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন এমন অভিযোগ সম্বলিত একটি উড়ো চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে কাপাসিয়া উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সাবেক জিএম মো: হাসান শাহ্ নাওয়াজ স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে জানানো হয়, কাপাসিয়া উপজেলায় বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনকালীন গাজীপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রায় পৌনে ৮ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন।

অপরদিকে, পল্লী বিদ্যুতের সাবেক ওই কর্মকর্তা থানায় তার স্বাক্ষর জাল করে উক্ত চিঠি লেখা হয়েছে মর্মে অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভাইরাল হওয়া জাল চিঠিতে দেখা যায়, গত ১ মার্চ গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অফিশিয়াল প্যাডে সদ্য অবসরে যাওয়া সিনিয়র জোনাল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী মো: হাসান শাহ্ নাওয়াজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির কাছে পাঠিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবহিতকরণ বিষয়ে লিখিত চিঠিতে তিনি বলেন, শ্রদ্ধার সাথে আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাকে অবহিত করার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ মনস্ত করেও পরিস্থিতির কারণে অবহিত করতে পারিনাই। আমি আগামী ২ মাস পর এলপিআর এ চলে যাব, তাই সময় থাকাবস্থায় লিখিতভাবে অসৎ কমিউনিষ্ট ঘেঁষা মো: শহীদুল্লাহ্’র দুর্নীতির কিছু তথ্য ও বিবরণ সততার সাথে জোর দিয়ে নিম্নে উল্লেখ করছি।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, আমি কর্মস্থলে আসার তিন বৎসর সময়ের মধ্যে কাপাসিয়া উপজেলা বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করি প্রায় ১ হাজার ৩শ কিলোমিটার। তাতে বৈদ্যুতিক পোল স্থাপন করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার ৫শ। প্রতি পোল থেকে আপনার নাম ভাঙ্গিয়ে ৪ হাজার টাকা করে সর্বমোট প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা উত্তোলণ করেছেন, যা সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ মেলে। আমি মনে করি সরকারের উন্নয়নে এই নীরব দুর্নীতি আপনার ও আপনার পরিবারের ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বিধায় আমার নৈতিক দায়িত্বে আপনাকে অবহিত করা।

কিন্তু ১লা মার্চ লেখা এ চিঠি গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি’র কাছে পৌঁছানোর আগেই গত ২৮ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি সাংবাদিকদের জানান, ভাইরাল হওয়া কোন চিঠি সরাসরি আমি পাইনি। তবে অন্যদের ফেসবুকে পেয়ে ওই জিএমকে ফোন করা হয়। এসময় জিএম জানান, তাকে উদ্দেশ্য করে এরকম কোন চিঠি তিনি লেখেননি। তার স্বাক্ষর জাল করে কেউ ওই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। 

এ বিষয়ে সাবেক জিএম প্রকৌশলী মো: হাসান শাহ্ নাওয়াজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে কোন স্বার্থান্বেষী মহল এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, আমি এ ধরণের কোন চিঠি লিখিনি। চিঠিটি মিথ্যা ও বানোয়াট। এ বিষয়ে তিনি গাজীপুর মহানগীর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা স্বাক্ষর জাল করে আপত্তিকর তথ্য লিখে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সুনাম নষ্ট করছে। তিনি এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।

প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
গাজীপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ শনিবার (২৯ মে) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি মহল বর্তমান সংসদ সদস্যের সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার, সাংসদ রিমি ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি মিথ্যা, কারণ চিঠি ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় জিএম গাজীপুর সদর থানায় গত ২৮ মে অভিযোগ করেছেন। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই একটি মহল ষড়যন্ত্র করে জিএম’র ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে ওই চিঠিটি ভাইরাল করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আমানত হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান প্রধান, সহসভাপতি আবদুল মজিদ দর্জি, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন আহমেদ সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রওশন আরা সরকার, প্রচার সম্পাদক ইমান উল্লাহ শেখ ইমু প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এসজেড