রণদাপ্রসাদ সাহাকে কেন দানবীর বলা হয়

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ১৯:২৭

বাংলা

মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

স্মরণীয় যাঁরা চিরদিন           

 

প্রশ্ন-৫। শহীদ সাবের কে ছিলেন? তিনি কীভাবে শহীদ হন?

উত্তর:তত্কালীন সময়ে ‘দৈনিক সংবাদ’ ছিল প্রগতিশীল মুক্তচিন্তা প্রকাশকারী একটি সংবাদপত্র। এ সংবাদপত্রের নিয়মিত সাংবাদিক ছিলেন শহীদ সাবের। এ ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক।

২৫শে মার্চ রাতে শহীদ সাবের বাসায় যেতে পারেননি। পত্রিকা অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েন। মাঝরাতেই শুরু হয় পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞ। তারা ‘দৈনিক সংবাদ’ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুনে পুড়েই মারা যান প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক শহীদ সাবের। 

প্রশ্ন-৬। রণদাপ্রসাদ সাহাকে কেন দানবীর বলা হয়?

উত্তর:সাধারণ মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন রণদাপ্রসাদ সাহা।

রণদাপ্রসাদ সাহা ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু মানুষ। তিনি মানুষের কল্যাণ করতে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন মানুষকে। মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি নিজেকে সপে দিয়েছিলেন। নানাভাবে মানুষের উপকার করতেন। আর বিপদে মানুষ তাঁর কাছে ছুটে এলে কেউ কখনো নিরাশ হত না। এ কারণেই মানুষ তাকে দানবীর বলে ডাকত। সারা জীবন মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণ সাধনের জন্য রণদাপ্রসাদ সাহা শ্রম দিয়ে গেছেন।

প্রশ্ন-৭। কয়েকজন শহীদ সাংবাদিকদের নাম বল ও তাঁদের সম্পর্কে লিখ।

উত্তর:১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা এদেশের অনেক মেধাবী সাংবাদিককে হত্যা করেছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন, শহীদ সাবের, সেলিনা পারভীন ও মেহেরুন্নেসা।

শহীদ সাবের:বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক শহীদ সাবের। তত্কালীন সময়ে তিনি লেখনীর মাধ্যমে মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য কাজ করতেন। প্রগতিশীল মুক্তচিন্তা প্রকাশকারী ‘দৈনিক সংবাদ’ এর সাংবাদিক ছিলেন শহীদ সাবের। ২৫শে মার্চ রাতে ‘দৈনিক সংবাদ’ এর অফিসে আগুন লাগিয়ে দিলে আগুনে পুড়ে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

সেলিনা পারভীন:সেলিনা পারভীন ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক। প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার অধিকারী সেলিনা পারভীন  ছিলেন ‘দৈনিক সংবাদ’ এর অকুতোভয় সাংবাদিক। নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে এ সাংবাদিক দেশের জন্য অকাতরে  জীবন উত্সর্গ করেছেন। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

মেহেরুন্নেসা:মেহেরুন্নেসাও ছিলেন ‘দৈনিক সংবাদ’ এর সাংবাদিক। তেজস্বী এই সাংবাদিক একজন ভালো কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। মাত্র পঁঁঁচিশ বছর বয়সে দেশের জন্য প্রাণ দেন এই মেধাবী সাংবাদিক। পরিপূর্ণ বিকশিত হওয়ার আগেই, অর্থাত্ কুঁড়িতেই যেন ঝরে গেল একটি গোলাপ। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

২৫শে মার্চের ভয়াল রাতে শহীদ সাবের, সেলিনা পারভীন ও মেহেরুন্নেসার মতো আরো অনেক সাংবাদিক শহীদ হন। আমরা তাঁদের কখনো ভুলবো না। 

 

 

রণদাপ্রসাদ সাহা