ফল

প্রাকৃতিক রসগোল্লা

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ১৯:২৯

 

আমরা দিনাজপুরিয়ারা লিচুকে ভালোবেসে বলি ‘প্রাকৃতিক রসগোল্লা’। স্বাদ আর বর্ণের জন্য দিনাজপুরের লিচুর ব্যাপক চাহিদা। এখানকার মাধববাটি বা মাশিমপুর গ্রামের মানুষেরা হাজার হাজার একর জমিতে লিচু আবাদ করে।

লিচুতে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ব্রেস্ট ক্যানসার নিরাময়ে সহায়ক। হার্ট ভালো রাখে। লিচুতে পাওয়া যায় অলিগনাল বলে বিশেষ উপাদান, যা নাইট্রিক অ্যাসিড উত্পাদন করে। এ অ্যাসিড রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। লিচু ঠিক রাখে শরীরের রক্তচাপও। হজম ক্ষমতা বাড়ায়। চোখে ছানি পড়তে দেয় না লিচুতে থাকা ফাইটো কেমিক্যাল থেকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ইনফ্লুয়েনঞ্জা হওয়ার প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন ভাইরাস। দেখা গেছে, ইনফু্লয়েঞ্জা হলে লিচু খেলে তা দ্রুত সেরে যায়। তাই লিচু থেকে এ অসুখের ওষুধ তৈরি করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে আছে ৬৬ ক্যালরি। এছাড়া আছে ফাইবার, যা চর্বি গলাতে সাহায্য করে। তাই যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা ডায়েটে অবশ্যই লিচু রাখুন। লিচুতে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’। আমাদের শরীরে ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। স্কার্ভি লিচু খেলে সেরে যায়। স্কার্ভি ভিটামিন ‘সি’ ডেফিসিয়েন্সি থেকে হয়ে থাকে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা নানা জাতের লিচু উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমানে ঈশ্বরদীতে আম ও লিচুতে কীটনাশকের পরিবর্তে চার্জওয়াটার নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিষমুক্ত ফল উত্পাদনে চাষিরা ভালো ফল পেয়েছেন। জার্মানি থেকে আমদানি করা এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে এ বছরই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়। প্রচণ্ড দাবদাহে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে ঝরে পড়ে, আবার পোকার আক্রমণ তো আছেই। এসব থেকে রেহাই পেতে লিচুচাষিরা ব্যবহার করেন বিভিন্ন রকমের কীটনাশক, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কীটনাশকের  চেয়ে প্রায় নব্বই ভাগ খরচ কমে বিষমুক্ত এই প্রযুক্তিতে শুধু পানিকে নিক্কন ওয়াটার মেশিনের মাধ্যমে চার্জ করে সেই পানি ব্যবহার করা হয় লিচু ও আম গাছে। এই পানি স্প্রে করার ফলে ঈশ্বরদীতে লিচু ঝরে পড়েনি, পোকা লাগেনি, পচেনি বা ফাটেনি।

লাভজনক বা অর্থকরী ফল প্রাকৃতিক রসগোল্লা লিচু দিনাজপুরের গর্ব ও অহংকার। তাই এর যথাযথ আধুনিক উত্পাদন পদ্ধতি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে লিচুচাষিদের সরকারিভাবে দেওয়া যেতে পারে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্স। লিচু সংরক্ষণের জন্য আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

মো. কায়ছার আলী