রসনা

পান্তাভাত পুষ্টিকর খাবার

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ১৯:৩২

 ‘পানিভাত’ বলে অনেকে। গ্রামাঞ্চলেই পান্তাভাতের প্রচলন বেশি। গ্রীষ্মকালের ঘাম ঝরানো দিনগুলিতে সাধারণত পান্তাভাত খাওয়াটা অধিক পছন্দের। লবণ, মরিচ ও পেঁয়াজে পান্তাভাত না হলে বাঙালির স্বাদ খোলে না।

বাংলার প্রবাদ—পান্তাভাতে জল তিন পুরুষের বল।

বিজ্ঞানের ভাষায়, পান্তাভাত হলো গাজানো ভাত বা সন্ধানীযুক্ত ভাত বা ফেসমেন্টেই রাইস।

ভাত রান্নার তিন-চার ঘণ্টা পরে প্রায় ১২ ঘণ্টার জন্য সেই ভাত পানিতে ভিজিয়ে রেখেই পান্তাভাত প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, পান্তাভাত পুষ্টিতে পরিপূর্ণ। গবেষকদের মতে, যেখানে ১০০ গ্রাম ভাতে ৩.৪ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে—সেই জায়গায় সমপরিমাণ পান্তাভাতে থাকে প্রায় ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম এবং পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়াম থাকে যথাক্রমে ৮৩৯ মিলিগ্রাম ও ৮৫০ মিলিগ্রাম। পান্তাতে সোডিয়ামের পরিমাণ ৪৭০ মিলিগ্রাম থেকে কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩০৩ মিলিগ্রামে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সহায়ক। পান্তা ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২-র খুব ভালো উত্স। ফাইটেডের পরিমাণ কমে যাওয়ায় পান্তাভাতে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ম্যাক্রো বা মাইক্রেন নিউট্রিয়েন্ট থাকে।

পান্তা অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। তাই প্রোবায়োটিক হিসাবে পান্তাভাতকে ব্যবহার করা যায়। প্যানক্রিয়াটিক অ্যামাইলেজসহ বিভিন্ন এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়াতে পান্তাভাত সাহায্য করে থাকে। দেহের ইমিউনিটিকে সরল করে এবং আলসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পান্তা দৌহিক ওজন কমায় এবং কর্মদক্ষতা বাড়ায়। সুস্থ হার্ট এবং সবল হাড় গঠনেও পান্তাভাত সহায়ক। পান্তা ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখে। পান্তাভাত দেহে আয়রনের ঘাটতি দূর করে এবং অ্যানিমিয়া প্রতিহত করতে সাহায্য করে। তাছাড়া তাপের ভারসাম্য রক্ষায় এবং দৈহিক ক্লান্তি দূর করতেও পান্তাভাতের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাই বলা যায়—সুস্থ ও সবল দেহ গঠনে পান্তাভাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

রকিবুল ইসলাম