উত্তরায় দুর্ভোগে পথচারী, ক্ষতির শিকার বৈধ ব্যবসায়ী
নিলয় মামুন
উত্তরার আজমপুর এলাকায় সংযোগ সড়ক দখল করে ১২টি পাকা দোকানঘর তৈরি করেছে একটি চক্র। প্রতিটি দোকান থেকে ৩ লাখ টাকা জামানত বাবদ নিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া দিচ্ছে তারা। সড়কটি দখলের পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সঙ্গে রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির কিছু নেতাকর্মী জড়িত বলে জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর মালিকানাধীন রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী আজিজ স্কয়ার মার্কেটের মধ্যবর্তী সড়কের মধ্যেই দোকানঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে ইতিমধ্যে হোটেল, কনফেকশনারি, ফুল ও চায়ের দোকান চালু করা হয়েছে। এছাড়া তৈরিকৃত কিছু দোকান এখনো ভাড়া দেওয়ার জন্য গ্রাহক খোঁজা হচ্ছে। দোকান ভাড়ার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, তিনি ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে এ দোকান পেয়েছেন। মাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। দোকান ভাড়া নিতে হলে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রাসেল মণ্ডল নামে এক জনকে দেখিয়ে দেন। যিনি উত্তরা পূর্ব থানা কৃষক লীগের নেতা বলে জানা যায়। রাসেল মণ্ডল বলেন, তিনিও এখানকার দোকান ভাড়া নিয়েছেন মো. নাজিম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে। এর আগেও একই জায়গায় দোকান ছিল। সেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
জানা যায়, মো. নাজিম উদ্দিন রাজউক কর্মচারী কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স উন্নয়ন কমিটির সাবেক নেতা এম এ মাজেদ খানের ছেলে। যিনি মূলত এ দোকান নির্মাণ করেছেন বলে জানা যায়। আর এটি দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করেন রাসেল মণ্ডল। দোকানগুলোতে বিদ্যুত্ ও পানি সংযোগ দেওয়া হয়েছে রাজউকের মার্কেট থেকেই। আর এই সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে রাজউক কমপ্লেক্স কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ জানেন বলে অভিযোগ করেছেন রাজউক কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি। সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, মার্কেট কমিটির অবগত হওয়া ছাড়া এটা হয়নি। অবশ্যই তাদের লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। এই সড়ক দিয়েই মার্কেটে মানুষ আসে। এজন্য ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত।
এর আগেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এই সড়কের দোকান উচ্ছেদ করে । দুই বছরের মাথায় ফের সড়কে দোকান নির্মাণ করায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই এলাকার পথচারী শাকিল হোসেন বলেন, এটি একটি সংযোগ সড়ক। সেক্টরের বাসিন্দারা এই পথ ব্যবহার করে রবীন্দ্র সরণি বা আজমপুর বাস স্টপে যাতায়াত করে। কিন্তু সেই সড়কেই দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, আগেও এখানে উচ্ছেদ হয়েছে। তখন যারা এটি নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবার এখানে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ফোনে একাধিকবার মো. নাজিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একইভাবে ফোনে সাড়া মেলেনি রাজউক কমপ্লেক্স কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক আওরঙ্গজেব নান্নুর ।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা এর আগেও অভিযান চালিয়ে এই সড়ক অবমুক্ত করেছি। আবারও যদি এটি দখল হয়ে থাকে তাইলে আমরা অবশ্যই এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাব। ফুটপাত দখলকারী কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
