এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ২১:৫৪

ঢাকা চেম্বারের ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দরকষাকষির দক্ষতা বাড়াতে হবে। রপ্তানিমুখী পণ্যের বহুমুখীকরণ, মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন, কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন ‘স্বল্পোনত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তোরণ: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারী আলোচকরা। গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে খাত ও বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ, বিনিয়োগ-জিডিপি হার বৃদ্ধি, করহার-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের ওপর জোরারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ঘাটতি কমাতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ কৌশলগত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোরারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, আমাদের নিজস্ব একটি বৃহত্ বাজার রয়েছে এবং দেশের নাগরিকদের আরো ভালো সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে। এলডিসি হতে উত্তরণের পরবর্তী সময়ে আমাদের পণ্য উত্পাদন ব্যয় খুব বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে আমাদেরকে প্রতিযোগী সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এশীয় ও আঞ্চলিক দেশেগুলোর বাজারের প্রতি আরো বেশি হারে মনোনিবেশ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বেসরকারি খাতের অবদান থাকবে প্রায় ৮১ শতাংশ। এ অবস্থার আলোকে তিনি দেশীয় উদ্যোক্তাদের আত্মবিশাস বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করেন। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদেরকে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে, যদিও এজন্য বাংলাদেশের আরো পাঁচ বছর সময় রয়েছে। তিনি দেশের মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা গ্রহণের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সরকারঘোষিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোরারোপ করেন। তিনি নিটওয়্যার ও ওভেন শিল্পের ভ্যালু অ্যাডিশনের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রস্তাব করেন। এছাড়া এলডিসি পরবর্তী সময়ে টিকে থাকার জন্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের আরো বিকাশ একান্ত অপরিহার্য বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি সকল বিষয়ে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণের ওপর জোরারোপ করেন।

নির্ধারিত আলোচনায়, এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবীর বলেন, এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের সরকারের দিক-নির্দেশনা খুবই জরুরি, সেইসঙ্গে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে ডায়ালগ আরো বৃদ্ধি করতে হবে। অর্থনৈতিক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদেরকে দুর্নীতি কমাতে হবে। বিদেশে পুঁজি পাচার রোধ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি রপ্তানিমুখী পণ্যের জন্য সহায়ক নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। ডব্লিউটিও-এর এলডিসি ইউনিট অব দি ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন-এর প্রধান তৌফিকুর রহমান তার বক্তব্যে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করার ওপর জোরারোপ করেন। এছাড়া তিনি গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, রপ্তানিমুখী পণ্যকে সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এন কে এ মবিন সেমিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা চেম্বারের সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ওয়েবিনারে যোগদান করেন।